1 Answers
আলোচ্য উদ্দীপকের সুব্রতের সাথে আমরা পাঠ্যপুস্তকের শ্রীবিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর চরিত্রের মিল পাই। তিনি মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় সহপাঠীদের নিয়ে 'হিতসঞ্চারিণী' নামক একটি সভা প্রতিষ্ঠা করেন। সভায় সিদ্ধান্ত ছিল যিনি যা সত্য বলে বুঝবেন, তিনি তা প্রাণপণে কার্যে পরিণত করবেন। পৃথিবীর সকল সত্য-মিথ্যা, পাপ-পুণ্য ভালো-মন্দ, ধর্ম-অধর্মের পার্থক্য নির্ধারণে মানুষকে পরিচালিত করে তার মন এবং বিবেক। এ মন দ্বারা পরিচালিত হয়ে মানুষ সৎ কাজ করে। শ্রী বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী বলেন, মানুষের মন যেটাকে সত্য বলে মনে করবে সেটাকেই কার্যে পরিণত করতে হবে। কারণ মানুষের মনের চেয়ে বড় কোনো মন্দির নেই। মানুষের হৃদয়ে থাকে স্বর্গ, হৃদয়ে থাকে সত্য, হৃদয়ে থাকে স্রষ্টা। মানুষ যখন কোনো খারাপ কাজে লিপ্ত হয়। তখন এ হৃদয়, বিবেক তাকে বাধা দেয়। অপকর্মে লিপ্ত হবার আগে যদি মানুষ তার বিবেককে প্রশ্ন করে তাহলে খারাপ কাজ করতে পারবে না। মন যেটাকে সত্য বলে মনে করে সে অনুযায়ী কাজ করলে আর ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে না। বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী তার নিজ জীবনেও এর প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তিনি বুঝেছিলেন পৈতা জাতিভেদের চিহ্ন। আর তাই ব্রাহ্মণদের এটি পরিত্যাগ করতে অনুপ্রাণিত করেন। মেডিকেল কলেজের চূড়ান্ত পরীক্ষার চেয়ে ব্রহ্ম ধর্ম প্রচার তার কাছে বেশি সত্য মনে হয়েছিল। তাই তিনি পরীক্ষা পরিত্যাগ করে ধর্ম প্রচারে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর এ বিখ্যাত উক্তিটির আলোকে আমরা বলতে পারি, মানুষের মন ঈশ্বরের সবচেয়ে বড় মন্দির। তাই মানুষের মন যেটাকে সঠিক এবং সত্য বলে সেটা করা উচিত এবং সেটা মিথ্যা বলে যেটা পরিত্যাগ করা উচিত। তাহলে জগতে থাকবে না কোনো দ্বন্দ্ব-সংঘাত। থাকবে না রক্তপাত, অন্যায়- অত্যাচার আর অবাঞ্ছিত মানবিক বৈষম্য।