1 Answers

উদ্দীপকের শেষোক্ত নদীটির নাম হলো মেঘনা।

মেঘনা নদীর সাথে ঐ এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের সম্পর্ক খুবই গভীর। নদনদীকে কেন্দ্র করে মানুষ খাদ্যোৎপাদন, মাছ শিকার, পণ্য পরিবহন, ব্যবসায় বাণিজ্য ইত্যাদি গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থায়ী বসতি হিসেবে গ্রাম এবং শহর গড়ে উঠেছে। নদীসমূহ পানি সম্পদে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে জনসংখ্যার বিস্তার সর্বাধিক ঘটেছে নদীগুলোর তীরে। ফলে অধিকাংশ শহর, গঞ্জ (বাণিজ্য) গড়ে উঠেছে বিভিন্ন নদীর তীরে। যেমন- বুড়িগঙ্গার তীরে ঢাকা, কর্ণফুলীর তীরে চট্টগ্রাম, শীতলক্ষার তীরে নারায়ণগঞ্জ, সুরমার তীরে সিলেট, গোমতীর তীরে কুমিল্লা ইত্যাদি। মেঘনা নদী থেকে পানি নিয়ে বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলায় চাষাবাদ উন্নত করা সম্ভব হচ্ছে। সারা দেশেই নদীর পানিকে ব্যবহার করে বিভিন্ন কৃষি পরিকল্পনা এখন বিস্তৃত হচ্ছে। এর ফলে দেশের কৃষি অর্থনীতি দিন দিন উন্নত হচ্ছে, মানুষের কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নদীপথে লঞ্চ ও স্টিমার দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে, পরিবহনের জন্যও নদীপথকে বাছাই করা হচ্ছে। ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন নদীপথকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছে।

সুতরাং বলা যায়, মেঘনা পাড়ের মানুষের অর্থনৈতিক জীবনের উন্নতির পাশাপাশি সারাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এ নদীটি ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকে।

5 views

Related Questions