1 Answers

মানুষ জন্মগ্রহণ অথবা মৃত্যুবরণ করলে জননাশৌচ ও মরণাশৌচ পালন করতে হয়। সুমন্তের কাকীমা মারা গেলে সে মরণাশৌচ পালন করে। কারণ সে বোঝাতে পারে প্রিয়জনের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত হই। তখন আমাদের মন সাধনভোজনের উপযোগী থাকে না। তাই অশৌচের মাধ্যমে শরীর শুদ্ধি করা প্রয়োজন। এছাড়া পিতা-মাতার জীবদ্দশায় সারাদিন কর্মক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে আসলে তাঁদের স্পর্শ আমাদের স্বর্গসুখ দেয়। হঠাৎ করে তাদের চির অনুপস্থিতি সন্তানকে বিচলিত করে তোলে। এমনকি নিকট আত্মীয়স্বজনের মৃত্যুও আমাদের বিষাদগ্রস্ত করে তোলে। তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হয়। কিন্তু বিচলিত মনে ঈশ্বরকে সবিনয়ে পূর্ণ একাগ্রতা আসে না। এজন্য চাই শান্ত মন। তাই সময়ের প্রয়োজন। আর এ প্রস্তুতির জন্য অশৌচ পালন করতে হয়। এতে মন ধীরে ধীরে শান্ত হয় এবং মনে প্রশান্তি ফিরে আসে।

অন্যদিকে পলাশ তার ভাইয়ের ছেলে হয়েছে বলে জননাশৌচ পালন করে। কারণ নতুন জন্মে জন্যে মানুষের মন আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠে। জাগতিক খুশি, আনন্দ মনকে ভরপুর করে তোলে। ফলে ত্যাগ, কৃচ্ছতা প্রভৃতি কষ্টকর কাজের মাধ্যমে ঈশ্বরে মনকে নিরুদ্ধ করা হয়ে ওঠে না। তাই অশৌচ পালন করতে হয়। কারণ এ সময়কালে মন আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। অশৌচ পালনে একদিকে যেমন মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় অন্যদিকে সামাজিক ও ধর্মীয় কর্তব্য পালন করা হয়। তাই বলা যায়, ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে অশৌচ পালন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

4 views

Related Questions