1 Answers
উদ্দীপকে অদ্বৈত আচার্য্য যে যুগের উল্লেখ করেছেন তা পাঠ্যপুস্তকের পৌরাণিক যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। উক্ত যুগের ধ্যানধারণা নিচে আলোচনা করা হলো-
পৌরাণিক যুগে হিন্দুধর্মের চিন্তাজগতে ভক্তির প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। বেদ ও উপনিষদের মধ্যেও ভক্তিভাবের ইঙ্গিত রয়েছে। এটি পৌরাণিক যুগে এসে বিশেষ বৈশিষ্ট্য লাভ করে। আর ভক্তিমার্গের প্রাধান্য লাভ করায় সনাতন ধর্মে এক রূপান্তর সংঘটিত হয়। ভক্তিকে অবলম্বন করে পরম তত্ত্বে উপনীত হওয়ার যাত্রাপথে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রকাশ ঘটে। দেবতা একাধিক, তাই পরমব্রহ্মের স্থান নিয়ে বিভিন্ন দেব দেবীর অনুসারী ভক্তগণের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দেয়। এভাবে বৈষ্ণব, শৈব, শাক্ত প্রভৃতি সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে। আর হিন্দুধর্মের অবতার পুরুষদের মাহাত্ম্য কীর্তনে বিভিন্ন পুরাণ ও উপপুরাণ প্রণীত হয়। বিষ্ণুপুরাণ, শিবপুরাণ, কূর্মপুরাণ, মৎস্যপুরাণ, লিঙ্গপুরাণ, ভাগবতপুরাণ এবং বেশকিছু উপ-পুরাণও এ যুগে রচিত হয়। বৈষ্ণব ধর্মে বিষ্ণু বা শ্রীকৃষ্ণ ভগবান হিসেবে পূজিত হন। আবার বৈষ্ণব ধর্মমতের মতো আরও একটি প্রভাবশালী ধর্মমত হলো শৈব ধর্মমত। তাদের মতে শিবই সমস্ত আগামশাস্ত্রের বক্তা।
আবার বিশ্বচরাচরে সর্বত্র শক্তির প্রকাশ। ব্রহ্ম বস্তুকে যখন সগুণ, সক্রিয় বলে ধারণা করা হয় তখনই তাঁর শক্তির চিন্তা এসে পড়ে; কেননা শক্তিরই প্রকাশ হয় ক্রিয়াতে। শক্তি ও শক্তিমান অভিন্ন। যেমন- অগ্নি ও তার দাহিকাশক্তি। দাহিকাশক্তি ছাড়া অগ্নির কল্পনা অসম্ভব। অনুরূপভাবে শক্তি ব্যতীত শক্তিমানের কর্মক্ষমতা থাকে না। সুতরাং শক্তিও পরম আরাধ্য ছিল এ যুগে।