1 Answers

উদ্দীপকে বর্ণিত শ্রদ্ধেয় আনন্দশ্রী ভিক্ষুর দেশনায় নির্বাণ সাধনার প্রয়োজনীয়তা অপরীসীম।

যাবতীয় দুঃখের নিরোধ বা নিবৃত্তি হওয়াকে নির্বাণ বলে। সবরকম দুঃখ থেকে মুক্ত হবার জন্য যে সাধনা করা হয় তাই নির্বাণ সাধনা। লোভ, দ্বেষ, কামনা, বাসনার কারণে সৃষ্ট অকুশল কর্ম থেকে বিরত হয়ে কুশল কর্মের মাধ্যমে শান্তিময় জগৎ নির্মাণ এবং জন্ম-মৃত্যু, জরা-ব্যাধির শৃঙ্খলে আবদ্ধ দুঃখময় জীবনপ্রবাহ থেকে মুক্তিলাভের জন্যে নির্বাণ সাধনার প্রয়োজনীয় অনস্বীকার্য।

উদ্দীপকে শ্রদ্ধেয় আনন্দশ্রী ভিক্ষুর দেশনায় এমন একজন মহামানবের কথা বর্ণিত হয়েছে যিনি জন্ম-মৃত্যু নিরোধ করে দেবতা ও মানুষের মুক্তির পথ প্রদর্শন করেছেন। অর্থাৎ ভিক্ষু গৌতম বুদ্ধে নির্বাণ সাধনা ও নির্বাণ লাভের বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং নির্বাণ সাধনার বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন। জগৎ দুঃখময়। অবিদ্যার কারণে মানুষ অকুশল চেতনার বশবর্তী হয়ে বিভিন্ন প্রকার অপকর্মে লিপ্ত হয়। ফলে সংসার ও জগতে শান্তি বিঘ্নিত হয়। নির্বাণ সাধনায় রত ব্যক্তিকে সবসময় কুশল কর্ম করতে হয়। অক্লান্ত সাধনায় লোভ-দ্বেষ-মোহহীন হয়ে অবিদ্যা দূর করতে হয়। অবিচ্ছিন্ন নির্বাণ সাধনায় তিনি নির্ভয় ও কল্যাণকামী হন। ফলে তিনি নিজের ও সকলের কল্যাণ সাধন করেন এবং জগৎ-সংসারের সর্ব প্রকার মঙ্গলের কারণ হন। আত্মত্মসংযম অনুশীলন করেন। সকলের প্রতি মৈত্রীভাবাপন্ন হন। নির্বাণ সাধনা এভাবেই নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই সকলের নির্বাণসাধনা করা উচিত। স্বল্প সময় বা স্বল্প চেষ্টায় নির্বাণলাভ সম্ভব নয়। এজন্য কঠোর অনুশীলন করতে হয়।

5 views

Related Questions