1 Answers
উদ্দীপকে বর্ণিত বুদ্ধের দেশনায় নির্বাণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
লোভ, দ্বেষ, কামনা, বাসনার কারণে সৃষ্ট অকুশল কর্ম থেকে বিরত হয়ে কুশল কর্মের মাধ্যমে শান্তিময় জগৎ নির্মাণ এবং জন্ম-মৃত্যু, জরা-ব্যাধির শৃঙ্খলে আবদ্ধ দুঃখময় জীবনপ্রবাহ থেকে মুক্তিলাভের জন্যে নির্বাণ সাধনার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। জগৎ দুঃখময়। তৃষ্ণা থেকে দুঃখের উৎপত্তি। তৃষ্ণার কারণ অবিদ্যা। অবিদ্যার কারণে মানুষ অকুশল চেতনার বশবর্তী হয়ে বিভিন্ন প্রকার অপকর্মে লিপ্ত হয়। এতে অজ্ঞানী মানুষ নিজের ক্ষতি যেমন করে অন্যদেরও ফলে সংসার ও জগতে শান্তি বিঘ্নিত যেমন করে অন্যদের ক্ষতিসাধন করে। ফলে সংসার ও জগতে শান্তি বিঘ্নিত হয়। নির্বিচার সাধনায় রত ব্যক্তি সর্বসময় কুলুষ কর্ম করতে হয়। যা চরিত্রে আয়ত্ততা সম্বোধন করে, উপযুক্তি করে দুঃখের কারণ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আধ্য আধ্যাত্মিক মার্গ অনুসরণ করতে হয়। অকারণ সাধনায় লোভ দ্বেষ-মোহহীন হয়ে অবিদ্যা দূর করতে হয়। অবিচ্ছিন্ন নির্বিচার সাধনায় তিনি নিজস্ব ও কল্যাণাকামী হন। ফলে তিনি নিজে ও সকলের কল্যাণ সাধন করেন এবং জগৎ-সংসারের সর্বপ্রকার মঙ্গলের কারণ হন। অপরের সাধনের ইচ্ছা, অঙ্কার, ইত্যাদি ত্যাগ করেন। আত্মসংযম অনুশীলন করেন। সকলের প্রতি মৈত্রীরূপাণ হন। নির্বিচার সাধনা এভাবেই নৈতিক মানসিক গুণাবলির বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই সকলের নির্বিচার সাধনা করা উচিত। স্বল্প সময় বা স্বল্প চেষ্টায় নির্বিচারলাভ সহজ নয়। এর জন্য কঠোর অনুশীলন করতে হয়।