1 Answers

উদ্দীপকে ভিক্ষুসঙ্ঘের লোকোত্তর জ্ঞান লাভের বিষয়টি অভিধর্ম পিটকের প্রতিফলন বোঝানো হয়েছে। উক্ত গ্রন্থে বৌদ্ধ ধর্ম-দর্শনের বিষয় রয়েছে।

ত্রিপিটকের তৃতীয় বা শেষ ভাগ হলো অভিধর্ম পিটক। বৌদ্ধ ধর্ম-দর্শনের সমৃদ্ধ আলোচনায় গ্রন্থটি ভরপুর। সূত্র পিটকে যেসব দার্শনিক ও নৈতিক বিষয়সমূহ অনুসরণ করার উপদেশ দিয়েছেন সেসব বিষয় অভিধর্ম পিটকে সূক্ষ্ম ও বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করে উপস্থাপন করা হয়েছে।

উদ্দীপকে আশীষ বড়ুয়া ধূতাঙ্গ ভিক্ষুর কাছ থেকে জানতে পারলেন বুদ্ধের ধর্ম-দর্শন ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের জন্য ভিক্ষুসঙ্ঘের লোকোত্তর জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। এ প্রসঙ্গে ত্রিপিটকের সর্বশেষ পিটকে বিসদ ব্যাখ্যা রয়েছে। অর্থাৎ ধূতাঙ্গ ভিক্ষুর বর্ণনায় অভিধর্ম পিটককে নির্দেশ করছে।

অভিধর্ম পিটকের মূল আলোচ্য বিষয় বৌদ্ধদর্শন ও পরমার্থ সত্য। যথা- স্কন্ধ, আয়তন, ধাতু, চ্যুতি, প্রতিসন্ধি, বল, নির্বাণ ও প্রজ্ঞপ্তি ইত্যাদি। অভিধর্ম পিটকে বৌদ্ধ মননশীলতার চরম বিকাশ ঘটে। অভিধর্ম বিষয়ে প্রকৃষ্ট জ্ঞান ব্যতীত কেউ উত্তম ধর্ম দেশনা করতে পারে না। এতে কাল্পনিক কোনো বিষয়ের অবতারণা নেই। কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের সাহায্যে মূল বক্তব্য বিশ্লেষণ করাই ইহার প্রধান বৈষিষ্ট। বৃদ্ধের মনস্ততাত্ত্বিক উপদেশই বক্তব্য বিমূেল বিষয়বস্তু। বিশেষত চিত্ত, চৈতসিক, রূপ এবং নির্বাণ প্রভৃতি সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে অভিধর্ম পিটকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে তাই অভিধর্মকে উচ্চতর ধর্ম ও বলা হয়। অভিধর্ম পিটক সাত ভাগে বিভক্ত। যথা- ১ ধম্মসঙ্গণি ২. বিভঙ্গ ৩. ধাতুকথা ৪. পুগগলপঞঞত্তি ৫. কথাবন্ধু ৬. যমক এবং ৭. পট্ঠান।

4 views

Related Questions