1 Answers

উদ্দীপকে সুখবিহারী জাতকের কথা বলা হয়েছে।

বৌদ্ধদের ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটকের প্রথম ভাগ সূত্র পিটকের পঞ্চম অংশ খুদ্দক নিকায়ের অষ্টম গ্রন্থ জাতকের একটি কাহিনি হলো সুখবিহারী জাতক। এই জাতকের মাধ্যমে বুদ্ধ মানবজীবনে ধ্যান-সমাধির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্য ও প্রকৃত সুখের বিষয়টি প্রকাশ করেছেন।

উদ্দীপকে বর্ণিত সুমিত বুদ্ধ শাসনে দীক্ষিত হওয়ার পূর্বে ধার্মিক উপাসক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ধ্যানের মহিমায় অনাবিল সুখের অধিকারী হন। তিনি কারো আশ্রয় চান না। নিজের জন্য কিছু করার কথা ভাবেনও না ধ্যান-সমাধির মাধ্যমে অর্জিত বিমল সুখে বিভোর থাকার বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। 

পুরাকালে বারাণসীরাজ ব্রহ্মদত্তের সময় বোধিসত্ত্ব উদীচ্য ব্রাহ্মণকূলে পরাগ্রহণ করেন। পরে তিনি হিমালয়ে চলে যান এবং প্রব্রজ্যা গ্রহণ জন্মগ্রহণ একবার রাজার অনুরোধে তিনি বারাণসীতেই থেকে যান। বোধিসত্ত্ব জ্যেষ্ঠ শিষ্যকে পাঁচশত শিষ্যের দেখাশোনার ভার দিয়ে হিমালয়ে চলে যেতে বলেন। জ্যেষ্ঠ শিষ্য একবার গুরুদেবকে বন্দনা করার জন্য বারাণসীতে যান। সেখানে গিয়ে গুরুদেবকে বন্দনা করে মাদুর পেতে শুয়ে পড়েন। ঠিক এ সময় তপস্বীর সঙ্গে দেখা করার জন্য রাজা সেখানে উপস্থিত হলেন। তপস্বীকে বন্দনা করে একপাশে তিনি উপবেশন করলেন। কিন্তু নবাগত তপস্বী রাজাকে দেখেও বিছানা ছেড়ে উঠলেন না। তখন রাজা ভাবলেন, তপস্বী বোধ হয় তাঁকে অবজ্ঞা করছেন। নবাগত তপস্বীর এমন আচরণ দেখে রাজা রেগে গেলেন। বোধিসত্ত্ব রাজার মনোভাব বুঝে বললেন, মহারাজ, এই তপস্বী আগে আপনার মতো রাজা ছিলেন। কিন্তু তপস্বী হয়ে এখন যে সুখ পেয়েছেন রাজ্যসুখ ভোগ করার সময় তা পাননি। রাজসুখ তাঁর কাছে তুচ্ছ মনে হচ্ছে। প্রব্রজ্যা গ্রহণ করে ধ্যান-সমাধির বিমল সুখে তিনি বিভোর। সেজন্যই হৃদয়ের উচ্ছ্বাসে এ রকম বলেছেন। বোধিসত্ত্ব রাজার ভুল ভাঙিয়ে দিয়ে রাজাকে ধর্মতত্ত্ব শিক্ষা দেওয়ার জন্য একটি গাথা বলেন যার অর্থ- যার মধ্যে কামনা- বাসনা নেই, তিনিই প্রকৃত সুখী। তিনি কারও ছায়ায় নিজেকে রক্ষা করার কথা ভাবেন না। নিজের জন্য কিছু করার কথা তিনি চিন্তা করেন না। বোধিসত্ত্ব এই ধর্মতত্ত্ব শিক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন, মানবজীবনে বৈষয়িক সম্পদ দুঃখের 'অন্যতম নিমিত্ত। জাগতিক সুখ- সম্পদের চেয়ে ধ্যান-সমাধির সুখ অনেক বেশি উপভোগ্য।

5 views

Related Questions