1 Answers
বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বিভিন্ন নিত্যকর্ম ও অনুশাসন রয়েছে, যা তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে থাকে। তাই শ্রদ্ধেয় করুণাশ্রী ভিক্ষুর কার্যাদি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য অবশ্যকরণীয়- উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকে শ্রদ্ধেয় করুণাশ্রী একজন ভিক্ষু হিসেবে যে কাজটি করেছেন, এটি ভিক্ষুদের নিত্য অনুশাসনের অন্তর্ভুক্ত।
তিনি শ্বাসগ্রহণ ও শ্বাসত্যাগের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধ্যান সমাধির অনুশীলন করেন।
ধ্যান ও সমাধি ভিক্ষু শ্রমণদের নিত্যকরণীয় একটি বিষয়। ধ্যান অনুশীলন ব্যতীত চিত্তের একাগ্রতা আনয়ন সম্ভব নয়। মানুষ সহজে তৃষ্ণার জালে আবদ্ধ হয়। লোভ, দ্বেষ, মোহ, কামনা, বাসনা প্রতিনিয়ত আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। এসবের তাড়নায় মানবচিত্ত অশান্ত থাকে। চিত্ত স্বভাবত চঞ্চল এবং ভালো-মন্দ উভয় দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে থাকে। এরূপ চিত্তকে সংযত করতে না পারলে তৃষ্ণা হতে মুক্তিলাভ সম্ভব নয়। এ জন্য জ্ঞানী ব্যক্তিগণ চিত্ত-সংযমের চেষ্টা করেন। ধ্যান সাধনার লক্ষ্য চিত্তসংযম। ধ্যানের মাধ্যমে বিক্ষিপ্ত চিত্তকে সমাহিত বা স্থির করা হয়। ভিক্ষু শ্রমণদের নিত্য ধ্যানানুশীলনের মাধ্যমে চিত্তের একাগ্রতা অর্জনের সাধনা করতে হয়। এভাবে আসক্তিসমূহ দূরীভূত হয়। এটি ধ্যানের প্রথম সোপান। মার্গফল লাভ করতে হলে এরকম চারটি সোপান অতিক্রম করতে হয়। বুদ্ধ-নির্দেশিত ধ্যানানুশীলনকে বিদর্শন ভাবনা বলা হয়। আসক্তিমুক্ত হয়ে মার্গফল লাভের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সাধনার নাম সমাধি। দ্বিতীয় স্তর থেকে সমাধির আরম্ভ। এ স্তরে সুখ-দুঃখ অতিক্রান্ত হয়ে শুধুমাত্র স্মৃতিটুকু অবশিষ্ট থাকে। সমাধির দ্বারা ছয় রকম বিশেষ জ্ঞান অর্জন হয়ে থাক। যথা-দিব্যাদিব্য দর্শন, দিব্য শ্রবণ, অন্যের মনোভাব জানা, পূর্বজন্মের স্মৃতি মনে করা, রিপু দমনের ক্ষমতা লাভ, অলৌকিক বা ঋদ্ধি শক্তি অর্জন। অর্হৎ ভিক্ষুগণ এ সকল বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী। এরা নির্বাণ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং পুনরায় জন্মগ্রহণ করবেন না।