1 Answers

উদ্দীপকের শেষ বাক্যটি হলো- স্বয়ং ঈশ্বর জ্ঞানীর কাছে ব্রহ্ম, যোগীর কাছে পরমাত্মা এবং ভক্তের কাছে ভগবান। এ বাক্যটির তাৎপর্য অপরিসীম।

নিরাকার ব্রহ্মকে জ্ঞানী ব্যক্তিরা সর্বত্রই অনুধাবন করে থাকেন। ব্রহ্ম সর্বত্রই অবস্থান করেন। অথচ তাকে দেখা যায় না। শুধু অনুভব করা যায়। সমুদ্রের নোনতা জলের মতন, লবণ দেখা যায় না অথচ লবণের স্বাদ সর্বত্র। এ ব্রহ্মই পরমাত্মা। যোগীরা পরমাত্মাকে উপলব্ধি করতে পারেন। অপরদিকে, ভক্তের চিত্তে ভগবানের অশেষ করুনা ও সর্ব শক্তিমত্তায় থাকে গভীর বিশ্বাস, এই বিশ্বাস অবলম্বন করে ভক্ত ভগবানকে একমাত্র আশ্রয়স্থল মনে করেন, ভগবান একমাত্র গতি এটা ভক্তের অনুভূতি। সোমার দাদু সোমাকে বলেছেন যে, যার কারণে এই জগৎ সৃষ্টি তাকে দেখা যায় না। জ্ঞানী, যোগী ও ভক্ত তাকে অনুভব করেন গভীরভাবে। তিনি সৃষ্টির আদি পুরুষ। বিশ্বের একমাত্র পরম আশ্রয়স্থল। পৃথিবীর সকল মুগ্ধতার কারণ একমাত্র তিনি। তিনি নিজেই নিজেকে আবির্ভাব ঘটান আবার নিজেই বিলীন হয়ে যান। জ্ঞানী ব্যক্তিরা সবসময় ঈশ্বরকে বৃহৎ বলেই জানেন। আর এ বৃহৎই ব্রহ্ম। যার থেকে বড় কিছু নেই। আবার যোগী ব্যক্তিগণের কাছে ঈশ্বরই জীবাত্মা। জীবাত্মা নিরাকার, নিগুণ ও নিশ্চল অবস্থায় নিজের মধ্যে অবস্থান করেন। ভক্তের নিকট ভগবান শেষ আশ্রয়স্থল তাই ঈশ্বর পরমাত্মা। এ আত্মা ব্রহ্মময়। ব্রহ্ম সর্বব্যাপী।

উপর্যুক্ত আলোচনায় তাই বলা যায়, ঈশ্বর জ্ঞানীর কাছে ব্রহ্ম, যোগীর কাছে পরমাত্মা এবং ভক্তের কাছে ভগবান।

5 views

Related Questions