1 Answers

উদ্দীপকের শেষ বাক্যটিতে বাস্তুতন্ত্রে স্থিতিশীলতা রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের অপরিসীম প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো-
বাস্তুতন্ত্র হলো প্রাকৃতিক পরিবেশের এমন কোনো স্থান যেখানে জীবসম্প্রদায় ও এদের পরিবেশ নিজেদের মধ্যে এবং পরস্পরের মধ্যে ক্রিয়া বিক্রিয়ার ফলে আন্তঃসম্পর্ক গড়ে উঠে। এই আন্তঃসম্পর্কের কারণে বাস্তুতন্ত্রে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। এই স্থিতিশীলতা বিপুল সংখ্যক জীবের তৎপরতার মধ্য দিয়ে পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ধরনের জীব পরিবেশে বিরাজমান। এরা হুবহু একই রকম নয় বরং পৃথকযোগ্য বৈশিষ্ট্যের কারণে এদের মধ্যে ভিন্নতা দেখা যায়। আবার একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের মধ্যেও ভিন্নতা থাকে। জীবগুলোর প্রাচুর্য এবং ভিন্নতাই হলো জীববৈচিত্র্য। অতএব, বাহুতন্ত্রের স্থিতিশীলতার সাথে জীববৈচিত্র্যের সম্পর্ক রয়েছে। কোন বাস্তুতন্ত্রের ভৌত, রাসায়নিক এবং জৈবিক উপাদানগুলোর মধ্যে কোনো প্রকার পরিবর্তন দেখা দিলে সেখানকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটবে। কারণ পরিবেশের উপাদানগুলো পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পর্কযুক্ত। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্যই এই জটিল সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশের কেবল একটি বিশেষ প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটলে বিরাট বিপর্যয় হতে পারে। যেমন- একটি পূর্ণবয়স্ক ব্যাঙ একদিনে তার ওজনের সমপরিমাণ পোকা-মাকড় খেতে পারে। বিভিন্ন কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে ব্যাঙের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে পোকা-মাকড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন। হচ্ছে। অর্থাৎ, কোনো জীব আকারে, গড়নে বড় কিংবা ক্ষুদ্র, যাই হোক না কেন পরিবেশের ভারসাম্য বা স্থিতিশীলতা রক্ষায় তা ভূমিকা রাখে।
সুতরাং, উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জীববৈচিত্র্যের প্রভাব রয়েছে।

5 views

Related Questions