1 Answers

উদ্দীপকে আদর্শ মহাপুরুষ হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আবির্ভাবের পূর্বের সময়কালকে আইয়‍্যামে জাহিলিয়্যা বা অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগকে বোঝানো হয়েছে। এছাড়া এ সময়কালকে প্রাক-ইসলামি যুগও বলা হয়। এ সময়ে আরবের সামাজিক অবস্থা নানা পাপ-পঙ্কিলতায় পরিপূর্ণ ছিল।

প্রাক-ইসলামি যুগে আরব সমাজের লোকগুলো নবি ও রাসুল (স.)-এর শিক্ষা ভুলে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিল। তাদের আচার-ব্যবহার ও চালচলন ছিল বর্বর ও মানবতাবিরোধী। সুষ্ঠু ও সুন্দর সামাজিক ব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই ছিল না। মানুষের জানমাল, ইজ্জতের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। নরহত্যা, রাহাজানি, খুন-খারাবি, ডাকাতি, মারামারি, কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া, জুয়াখেলা, মদপান, সুদ, ব্যভিচার ছিল তখনকার প্রচলিত ব্যাপার। তৎকালীন সমাজে নারীর কোনো মর্যাদা ছিল না। তাদেরকে সামাজিক জীব মনে করা হতো না; বরং দাসী হিসেবে বিক্রি করা হতো, ভোগবিলাসের বস্তু মনে করা হতো। যার বর্ণনা পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে এসেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তান জন্মের সংবাদ দেওয়া হতো, তখন তাদের মুখমণ্ডল কালো হয়ে যেত। আর তাকে দেওয়া সংবাদের লজ্জায় সে নিজেকে নিজ সম্প্রদায় হতে লুকিয়ে রাখত। (আর চিন্তা করত) এ নবজাতককে লজ্জা-অপমান সহ্য করে বাঁচিয়ে রাখবে না, তাকে মাটির নিচে পুঁতে ফেলবে? জেনে রেখ, তারা যে প্রথা অনুসরণ করছে তা অতিশয় নিকৃষ্ট। (সূরা আন-নাহল: ৫৮-৫৯) এককথায়, প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের সামাজিক অবস্থা ছিল পাপ-পঙ্কিলতায় পূর্ণ। তারা শিক্ষাদীক্ষায়ও পিছিয়ে ছিল। তাই ঐতিহাসিকগণ এ যুগকে আইয়্যামে জাহিলিয়্যা বা অজ্ঞতার যুগ বলে অভিহিত করেছেন।

4 views

Related Questions