1 Answers

উদ্ধৃত অংশে ইজমার কথা বলা হয়েছে। ইসলামি শরিয়তের এটি তৃতীয় উৎস।

 ইসলামি শরিয়তে ইজমার গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় আল-কুরআন ও রাসুলের সুন্নাহই শুধু মুসলিম আইনের মূল গ্রন্থ ছিল। মুসলমানদের বিভিন্ন সমস্যা উপরিউক্ত কিতাবসমূহের দ্বারাই মীমাংসিত হতো। কিন্তু কালক্রমে যখন মুসলমানরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জয় করতে লাগল তখন বিজিত দেশসমূহে নতুন নতুন সমস্যা উপস্থিত হতে লাগল, যা মুসলমানদেরকে সমাধান করতে হতো। ঐসব সমস্যার মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মগত ও কৃষ্টিগত সমস্যাই ছিল প্রধান। তারা এসব সমস্যা পবিত্র কুরআন ও হাদিস মারফত সমাধান করার চেষ্টা করেন; বিষ্ণু মানুষের জ্ঞান সীমাবদ্ধ। তাই কুরআন-হাদিস সম্বন্ধে তাদের ধারণা ও গবেষণা সীমিত হওয়াতে তারা কুরআন হতে যাবতীয় সমস্যার সমাধান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় নি। অধিকন্তু কুরআন ও হাদিসের ঐসব জটিল সমস্যার সুস্পষ্ট সমাধান নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই মুসলমানেরা কুরআন ও হাদিসের ব্যবহার করা ছাড়াও নিজেদের মতামত প্রয়োগ করত। কোনো নতুন সমস্যা উপস্থিত হলে যদি কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে তার সমাধান খুঁজে না পাওয়া যেত, তাহলে রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর সাহাবিদের নিজেদের বিচার শক্তির প্রয়োগ করে উক্ত সমস্যার সমাধান করতে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। এসব কারণেই ইজমার উৎপত্তি হয়।

ইসলাম যে একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল জীবনব্যবস্থা, ইজমা তার প্রকৃত প্রমাণ। কুরআন ও হাদিসের পরে ইজমা শরিয়তের তৃতীয় উৎস। শরিয়তসংক্রান্ত বিষয়ে ইজমা একটি অকাট্য দলিল। কোনোক্রমেই ইজমার বিরোধিতা করা যায় না।

পরিশেষে বলা যায়, ইজমার উৎপত্তি যেমন যৌক্তিক তেমনি মানবজীবনে এর প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

4 views

Related Questions