1 Answers
উদ্দীপকে অন্বয়ী পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। নিচে এই পদ্ধতির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো-
অন্বয়ী পদ্ধতি একটি নিরীক্ষণের পদ্ধতি, তাই এর প্রয়োগ খুবই সহজবোধ্য এবং ব্যাপক। পাশাপাশি এ পদ্ধতি প্রয়োগে গবেষণাগারে বা তেমন ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না বলে এর আর্থিক ব্যয়ও কম। অন্বয়ী পদ্ধতি নিরীক্ষণের পদ্ধতি হওয়ায় এই পদ্ধতির মাধ্যমে সহজেই কার্য থেকে কারণ এবং কারণ থেকে কার্য উভয় দিকে গমন করা যায়।
অপরদিকে অন্বয়ী পদ্ধতিতে কিন্তু প্রকৃতগত ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। নিরীক্ষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় এতে অনিরীক্ষণজনিত অনুপপত্তি অবৈধ সার্বিককরণ অনুপপত্তি এবং কার্যকারণসংক্রান্ত অনুপপত্তি দেখা দেয়। আবার দৈনন্দিন জীবনে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তা সব সময় সঠিক হয় না। যেমন- একটি বাড়ির কয়েকজন লোক একসাথে কলেরা রোগে আক্রান্ত হলো। অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেল তারা প্রত্যেকেই আগের দিন পচা মাছের তরকারি দিয়ে ভাত খেয়েছিল। তাই পচা মাছ খাওয়াকেই কলেরা হওয়ার কারণ বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো। কিন্তু আসলে হয়তো কলেরার প্রকৃত কারণ অন্যদিকে নিহিত ছিল, পচা মাছ একটি উপলক্ষ মাত্র।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় মিলের পরীক্ষণমূলক পদ্ধতিগুলোর মধ্যে অন্বয়ী পদ্ধতি অন্যতম, যদিও সবক্ষেত্রে এর সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা প্রদান করা যায় না।