বেতের নামাজে নিওম জানাবেন?
3 Answers
এশার নামায পড়িবার পর বিতরের তিন রাকাআত নামায পড়তে হয়, ইহা ওয়াজিব। প্রথম দুই রাকাআত সাধারন ভাবে আদায় করতে হবে । তৃতীয় রাকাআতে সূরায়ে ফাতিহার পর অন্য কোন সূরা বা আয়াত পড়িয়া আল্লাহু আকবর বলিয়া উভয় হস্ত কান পর্যন্ত উঠাইয়া পুনঃ হাত বাঁধিয়া দোয়ায়ে কুনুত পড়া। তারপর রুকু সিজদা ইত্যাদি যথারীতি আদায় করে নামায শেষ করা ।
বিতর অর্থ বিজোড়। বিতরের নামায ফরয নামায সমূহের মত অত্যাবশ্যকীয় নামায নয়। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা সুন্নাতরূপে প্রবর্তন করেছেন। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বিতর বা বিজোড়, তিনি বিতরকে ভালবাসেন। হে কুরআনের বাহকগণ! তোমরা বিতর আদায় কর। বিতরের নামায তের, এগার, নয়, সাত, পাঁচ, তিন এবং এক রাকাআত যা বিজোড় সংখ্যায় আদায় করা যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অন্যান্য আলিমগ তিন রাকআত বিতর আদায়ের পক্ষে বেশি মত দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা এক রাকাআত বিতর আদায় করতেন। (সূনান আত তিরমিজী, হাদিস নম্বরঃ ৪৪০) আবূ আইয়ুব আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ বিতর সালাত সত্য। অতএব কেউ চাইলে তা পাঁচ রাকআত পড়তে পারে, তিন রাকআত পড়তে পারে এবং এক রাকআতও পড়তে পারে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বরঃ ১১৯০) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অন্যরা তিন রাকআত বিতর আদায়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, তুমি চাইলে বিতরের নামায পাঁচ, তিন বা এক রাকআতও আদায় করতে পার। তিনি আরো বলেছেন, আমি তিন রাকাআত বিতর পড়া পছন্দ করি। ইবনুল মুবারাক ও কুফাবাসীগণের অভিমতও ইহাই। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন বলেছেন, তারা নিজেরা পাঁচ রাকাআতও আদায় করতেন, তিন রাকাআতও আদায় করতেন এবং এক রাকাআতও আদায় করতেন। তারা এর প্রতিটিকেই উত্তম মনে করেছেন। ইসহাক ইবনু ইবরাহীম বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তের রাকাআত বিতর আদায়ের যে বর্ণনা রয়েছে তার তাৎপর্য হল, রাতের বেলা তিনি তাহাজ্জুদ সহ তের রাকাআত বিতর আদায় করতেন। [কিভাবে বিতর আদায় করতে হয় এর বিস্তারিত জানতে চাইছেন কি? আপনি মন্তব্যে জানিয়ে দিন]
বিতর নামাজ অন্যান্য ফরজ নামাজের ন্যায় দুই রাকাআত নামাজ পড়ে প্রথম বৈঠকে বসে তাশাহহুদ পড়া। তারপর তৃতীয় রাকআত পড়ার জন্য উঠে সুরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য কোনো সুরা বা আয়াত মিলানো। কিরাআত (সুরা বা অন্য আয়াত মিলানোর পর) শেষ করার পর তাকবির বলে দু’হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে তাকবিরে তাহরিমার মতো হাত বাঁধতে হয়। তারপর নিঃশব্দে দোয়া কুনুত পড়া। দোয়া কুনুত পড়ে পূর্বের ন্যায় রুকু, সিজদার পর শেষ তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়া মাছুরা পড়ে ছালাম ফিরানোর মাধ্যমে বিতরের নামাজ সমাপ্ত করতে হয়। সতর্কতা- তৃতীয় রাকাআতে দোয়া কুনুত না পড়ে সিজদায় চলে গেলে নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ে সাহু সিজদা করলেই চলবে। আবার ভুলে প্রথম বা দ্বিতীয় রাকাআতে দোয়া কুনুত পড়ে ফেললেও সাহু সিজদা দিতে হবে। সুতরাং বিতরের নামাজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুসলিমাকে নিয়মিত বিতরের নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy