user-avatar

Sabirul Islam

◯ SabirulIslam


১ সেকেন্ড পালস বলতে বুঝায় প্রতি সেকেন্ডের জন্য  নির্দিষ্ট টাকা পরিশোধ করা। এক্ষেত্রে আপনি যত সেকেন্ড কথা বলবেন সেক্ষেত্রে তত সেকেন্ডের টাকা কেটে নিবে।


উদাহরণঃ যদি ১০ সেকেন্ড কথা বলেন এক্ষেত্রে যদি ১ পয়সা সেকেন্ড কল রেট হয় তবে ১০ পয়সা কাটবে।
এন্ট্রপি বলতে কী বোঝায়? কোথায় এটির ব্যবহার রয়েছে?
টেলিমেডিসিন কী ? এর কাজ কী?
আপনি কিভাবে বুঝবেন, যদি কেউ অজান্তেই আপনার স্মার্টফোন ব্যবহার করে?
কীভাবে সিটি স্ক্যান যন্ত্র কাজ করে বলতে পারবেন কি?
কিভাবে সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলা যায়?
বায়ুর চাপ মাপার জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়?
কম্পাউন্ড ইন্টারেস্ট কী?
ফিউস তার কী এবং এটি কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় ?
স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে রুট (Root) করা কী জিনিস? ফোন রুট করার সুবিধা ও অসুবিধাগুলো কী কী?
মোবাইল ডাটা দিয়ে ১০ কি.মি. দূর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা ড্রোন নিজে নিজে বানাবো কিভাবে?
এন্ড্রয়েড মোবাইলে ডেস্কটপের মতো দুটি কাজ করব কিভাবে?
'কম্পাউন্ড ইন্টারেস্ট' কী?
মোবাইলের প্রক্সিমিটি সেন্সর-এর কাজ কী?
মোবাইল নাম্বার দিয়ে তার পরিচয় বা লোকেশন বের করার পদ্ধতি আছে কি?
এন্ড্রয়েড ফোনে ডাটা অন করলে যে h+ লেখা উঠে ওই h এর মানে কী? বা এর ফুল ওয়ার্ড কী?



বর্তমানে এখন বিস্ময়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর সর্বোত্তম উত্তর হিসাবে নির্বাচন করা যায় না।


তবে কোন প্রশ্নে অফার করলে সেই প্রশ্নের সর্বোত্তম উত্তরটি সিলেক্ট করতে পারবেন।


মানুষের মৃত্যুর পর স্বর্গে অথবা বা নরকে গমনের বিষয়টি প্রায় প্রতিটি ধর্মেই রয়েছে। এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও বিস্তৃত বর্ণনা রয়েছে বৈদিক শাস্ত্রে।

স্বর্গ একটি ধর্মীয়, বিশ্বতাত্ত্বিক, বা আধিবিদ্যক স্থান যেখানে বিশ্বাসীদের মতে দেবতা, দেব-দূত, আত্মা জাতীয় সত্তা, সন্ত অথবা পূজিত পিতৃপুরুষগণ উদ্ভূত, রাজাসনে অধিষ্ঠিত বা বাসরত। কিছু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী স্বর্গীয় সত্তারা পৃথিবীতে অবতরণ বা জন্মগ্রহণ করতে পারে, এবং পরকালে পার্থিব সত্তারা স্বর্গে আরোহণ করতে পারে, বিশেষ পরিস্থিতিতে তা জীবিত অবস্থায় হতে পারে।

স্বর্গ প্রায়ই উচ্চতর স্থান (ঊর্ধ্বলোক), পবিত্রতম স্থান, নন্দনকানন হিসেবে বর্ণিত হয়ে থাকে, নিম্নস্থান হিসেবে নরক। বিবিধ মানের দেবত্ব, সদাশয়তা, পুণ্য, বিশ্বাস, কিংবা অন্যান্য সদ্গুণ বা সনাতন পন্থা বা কেবল ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে স্বর্গ সার্বজনীন কিংবা সর্তসাপেক্ষে পার্থিব সত্তাদের জন্যে অভিগম্য। কেউ কেউ একটি আগামী যুগে পৃথিবীতেই স্বর্গের সম্ভাবনায় বিশ্বাস রাখে।

ইসলাম ধর্মমতে জান্নাতের অবস্থান:
আল্লাহ বলেন: কখনো নয়, নিশ্চয় নেককার লোকদের আমলনামা থাকবে ইল্লিয়্যীনে । কিসে তোমাকে জানাবে ‘ইল্লিয়্যীন’ কী? (সূরা মুতাফফেফীন: ১৮ ও ১৯)

আব্দুল্লাহ ইব‌নে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু’ বলেন, ‘ইল্লিয়্যীন’ অর্থ জান্নাত, অথবা সপ্তম আকাশে আরশের নিচে অবস্থিত একটি স্থান। (তাফসীরে বগবী, ৪৬০/৪, তাফসীরে ইবন কাসীর ৪৮৭/৪।)।

ইসলাম ধর্মমতে জাহান্নামের স্থান:
আল্লাহ বলেন, কখনো নয়, নিশ্চয় পাপাচারীদের ‘আমলনামা সিজ্জীনে। কিসে তোমাকে জানাবে ‘সিজ্জীন’ কী?

এ বিষয়ে ইমাম ইবনে কাসীর রহ., ইমাম বগবী রহ. ও ইমাম ইবনে রজব রহ. একাধিক হাদিস উল্লেখ করেন, তাতে তিনি বলেন, সিজ্জীন হল, সপ্ত জমিনের নিচে। অর্থাৎ, যেমনি-ভাবে জান্নাত সাত আসমানের উপরে অনুরূপভাবে জাহান্নাম সপ্ত যমীনের নীচে একটি স্থান।

(তাফসীরে বগবী, ৫৪৮/৪, তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪৮৬, ৪৮৭/৪।জাহান্নাম থেকে ভয় প্রদর্শন ইবনে রজবের পৃ: ১-৬২ অনুরূপভাবে ইমাম ইবনুল কাইয়ুমের হাদীয়ুল আরওয়াহ ইলা বিলাদিল আফরাহ, পৃ:৮২-৮৪)।


আশিক Ashik বানানে কোন (ভূল) সমস্যা নেই।


তবে নামের আগে MD. না লিখে Muhammad লিখবেন এটাই ভাল হবে।


নামের পুর্বে Muhammad লিখতে চাইলে শর্ট
করে না লিখে পুর্ণ নাম তথা মুহাম্মাদ লিখবেন মো: MD. লেখাটা কিছুতেই যুক্তিসঙ্গত নয়।


অনেকের ধারণা, নামাজ পড়ার পর জায়নামাজ বিছিয়ে রাখতে নেই। নামাজের পর।জায়নামাজ বিছিয়ে রাখলে শয়তান এসে তাতে নামাজ পড়ে নেয়। এটি একটি ভুল ধারণা।

তবে হ্যাঁ, নামাজ পড়া হয়ে গেলে জায়নামাজ বিছিয়ে না রাখাই ভালো। কারণ, জায়নামাজ পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখা জরুরি।

বিছিয়ে রাখলে তার ওপর দিয়ে চলাফেরা
হবে; ফলে তা ময়লা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিংবা তাতে নাপাক লাগতে পারে। এটা ছোট বা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের জায়নামাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

কিন্তু বড় কিংবা মসজিদে বিছানো বড় জায়নামাজের ক্ষেত্রে পুরো মসজিদকে হেফাজত করতে হবে। বারবার তো আর পুরো জায়নামাজ উঠানো যাবে না।

তবে কোনোভাবেই এমন ধারণা করা যাবে না যে, জায়নামাজ খালি বিছিয়ে রাখতে তাতে শয়তান এসে নামাজ আদায় করে নেয়। এটা একেবারেই ভ্রান্ত ও
ভুল ধারনা ছাড়া আর কিছু নয়।

জুমার আযান?

SabirulIslam
Jun 6, 04:30 PM


জুমুয়ার আযান দরজার সামনেই দিতে হবে এই মর্মে কোনো সহিহ দলিল নেই।

কিন্তু জুমুআর নামাযের আযান সম্পর্কে আপনি যে হাদিসের কথা বলছেন তা হচ্ছেঃ

আন-নুফায়লী (রহঃ) আস-সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআর দিনে যখন মিম্বরের উপর বসতেন, তখন মুয়াজ্জিন মসজিদের দরজার উপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনা সামনি দাঁড়িয়ে আযান দিতেন এবং আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)-এর সময়েও এই নিয়ম চালু ছিল।

(সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২/, হাদিস নম্বরঃ ১০৮৮ হাদিসের মানঃ মুনকার (সর্বদা পরিত্যক্ত)।

তবে নির্ভরযোগ্য ও বিখ্যাত তাফসীর সমূহের বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হয় যে, জুমুয়ার ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার প্রচলন হযরত উসমান (রাঃ) স্বয়ং নিজেই করেছেন এবং এর উপর সাহাবায়ে কিরাম রসদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম তাদের ইজমা তথা ইজমায়ে আযীমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অতএব ছানী আযান মসজিদের ভিতরে, মিম্বরের নিকটে দেয়াই ইজমা সম্মত।

রেফারেন্সঃ হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তিনি বাজারে আযান দেয়ার জন্য আদেশ করেছেন যাতে করে মুছল্লীগণ বাজার হতে এসে নামায আদায় করতে পারে। অতঃপর মুসল্লীগণ একত্রিত হলে মসজিদের ভিতর আযান (ইক্বামত) দেয়া হতো। অতঃপর হযরত উসমান (রাঃ) তিনি মসজিদের ভিতরে দুইটি আযানের প্রচলন করেন। (এটার দ্বারা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, খতীবের সামনের আযান অর্থাৎ ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার নিয়ম হযরত উসমান (রাঃ) জারী করেন। (তাফসীরে সিরাজুম মুনীর, ৪র্থ খন্ড, ২৮৫ পৃষ্ঠা)।

রাসুল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময় থেকে দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এর খিলাফতকাল পর্যন্ত জুমুআর নামাযে অন্যান্য নামাযের আযানের ন্যায় একটি মাত্র আযানই প্রচলিত ছিল। অতঃপর হযরত উসমান (রাঃ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মদীনায় অবস্থিত ‘যাওরা’ নামক স্থানে দ্বিতীয় আরেকটি আযান (বর্তমানের প্রথম আযান) বৃদ্ধি করেন। এবং মিনারার আযানের পর, প্রথম আযানটি (বর্তমানের দ্বিতীয় আযান) মিম্বরের নিকটে ইমামের সম্মুখে দেয়া শুরু করেন। (তাফসীরে আহকামুল কুরআন লিশ শফী ৫ম জিলদ, পৃষ্ঠা-৬০-৬১)।

কুরআন মাজিদের সুরা জুমুআর ৯ নাম্বার আয়াতে “নুদিয়া” দ্বারা জুমুআর দিন খতীব ও মিম্বরের সামনে যে আযান দেয়া হয়, তাই উদ্দেশ্য। কেননা বর্তমানের প্রথম আযান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সময় প্রচলিত ছিল না। ওটা হযরত উসমান (রাঃ) এর খিলাফতকালে লোকসংখ্যার আধিক্য ও কাজ-কর্মের ব্যস্ততার কারণে সাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদের পরামর্শক্রমে বৃদ্ধি করা হয় এবং ওটা ‘যাওরা’ নামক স্থানে দেয়া হতো। যেহেতু এটার উপর সাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমদের ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সুতরাং এটা সুন্নাতে খুলফায়ে রাশেদ অর্থাৎ হযরত উসমান (রাঃ) এর সুন্নাত (তাফসীরে কামালাঈন, ৪র্থ জিলদ,পৃষ্ঠা-৭৭, তাফসীরে মায়ারিফুল কুরআন, ৮ম জিলদ, পৃষ্ঠা-৪৪২)।

আযানের উদ্দেশ্য মানুষদেরকে নামাযে আসার জন্য আহব্বান করা। মসজিদের মিম্বর উঁচু থাকলে তাতে উঠে আযান দেওয়া সুন্নত। মিম্বর না থাকলে মসজিদের যে স্থানে দাঁড়িয়ে আযান দিলে মানুষের শ্রবনের আশা বেশি থাকে সেখানেই আযান দেওয়া মুস্তাহাব।

বর্তমানে যেহেতু বেশিরভাগ মসজিদে মাইক আছে আর তাতেই আযান দেওয়া হয়, তাই মসজিদের যেকোন স্থান থেকে আযান দিলে যথেষ্ট হবে।


পরশ্রীকাতর হচ্ছে, অপরের উন্নতি বা সৌভাগ্য দেখে কাতর বা ঈর্ষান্বিত হওয়া।

মূল ব্যাপার হলো, যখন তিনি অন্যের ভাল দেখে কাতর হয়ে হিংসাত্মক আচরণ করে। তার সর্বনাশ করতে মরিয়া হয়ে উঠে।

পরশ্রীকাতরের প্রধান অস্ত্রই হচ্ছে হিংসা-বিদ্বেষ।

অপরের উন্নতি বা সৌভাগ্য দেখে যারা ঈর্ষান্বিত হওয়া মোটেই উচিত নয়। অপরকে হিংসা করা এবং পরশ্রীকাতর হওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। এই অপগুণ থেকে যারা মুক্ত তারা আখিরাতের জীবনে পুরস্কৃত হবেন।

তাই পরশ্রীকাতর হতে বাঁচতে হলে তিনটি গুণ লাভ করতে হবে। এই তিনটি গুণ লাভ করতে পারলে হিংসা বাসা বাঁধতে পারবে না।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, তিনটি গুণ আছে, যেগুলো কোনো মুমিন অর্জন করতে পারলে তার অন্তরে কারো প্রতি হিংসা আসবে না।

☞ প্রথম গুণ হচ্ছে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সকল কাজ করা।

☞ দ্বিতীয়, মুসলমানদের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত দায়িত্বশীলদের কল্যাণ কামনা করা।

☞ তৃতীয়, মুসলমানদের সঙ্গে মিলেমিশে সংঘবদ্ধ জীবন যাপন করা।

যাকে হিংসা করা হয় তার জন্য যা করণীয়ঃ

☞ আল্লাহর ভয় এবং তার সীমার হিফাজত করা।

☞ অভিশপ্ত শয়তান এবং হিংসুকের হিংসার অনিষ্টতা হতে আল্লাহর নিকট খাঁটিভাবে আশ্রয় চাওয়া।

☞ বেশী বেশী কোরআন তেলাওয়াত ও আল্লাহর যিকির করা এবং এর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা।

☞ হিংসুকের হিংসার ব্যাপারে ধৈর্য্য ধারণ করা এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ভরসা রাখা।

☞ প্রচন্ড ভালবাসার সাথে আল্লাহর দিকে মনোযোগ দেয়া এবং তাঁর প্রতি নিবেদিত ও বিনয়ী হওয়া।

☞ সকল প্রকার গুনাহ হতে এবং যা হিংসুকের প্রভাব বিস্তারের কারণ, তা হতে খাঁটি তাওবা এবং বেশী বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করা।

☞ হিংসুকের ব্যাপারে ব্যস্ত না থাকা এবং তাকে নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা হতে বিমুখ হওয়া বরং চিরতরে তা ভূলে যাওয়া।

☞ হিংসুকের প্রতি ইহসান করা , তাকে দান-খয়রাত বা হাদিয়া দেয়া, যেন তার অন্তরে প্রজ্জলিত হিংসার অগ্নিশিখা নিভে যায়।


মানুষ মারা গেলে কবর দেয়া হয় এবং এই কবরেই তার শাস্তি হয়। কিন্তু কবরে রুহ আসে না।

মৃত্যুর পর ইমানদার সৎকর্মশীল মানুষের রুহ ‘ইল্লিয়্যিন’ নামক জায়গায় অবস্থান করে। আর অবিশ্বাসী ও পাপী লোকদের রুহ ‘সিজ্জিন’ নামক জায়গায় অবস্থান করে। (রেফারেন্স: সুরা মুতাফিফফীন : ৭-১৮)।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকীদা মতে, কবরের আজাব সত্য। মুমিন ও সালেহ ব্যক্তিরা যেমন কবরে শান্তি পায় এবং কিয়ামত পর্যন্ত এভাবে থাকে তেমনি কাফির ও পাপকারীরা কবরের শাস্তি ভোগ করে।

কোনো ব্যক্তির যখন মৃত্যু হয়ে যায়, এর অর্থ হচ্ছে দুনিয়ার সঙ্গে তার যে সম্পর্ক রয়েছে, সেটা আত্মিক সম্পর্ক হোক অথবা শারীরিক সম্পর্ক হোক, কোনো সম্পর্কই সেখানে আর অবশিষ্ট থাকে না। তার আত্মার কোনো ধরনের আগমন, বহির্গমন, সংযোজন, অর্থাৎ যেকোনো ধরনের তৎপরতা অবশিষ্ট থাকে না।

সুতরাং আত্মা স্বাধীনভাবে যে ঘোরাফেরা করবে অথবা আসবে-যাবে, ব্যাপারটা এমন নয়। মৃত্যুর পরে মানুষ চলে যায় আল্লাহর বারজাখি জিন্দেগিতে এবং বারজাখি জিন্দেগি হচ্ছে এমন যে বারজাখের একটা অর্থই হচ্ছে, এখান থেকে আর কোনোভাবেই বের হওয়ার সুযোগ নেই।

তাই বারজাখি জিন্দেগিতে যারা চলে গিয়েছে, তারা একটা আড়ালে চলে গিয়েছে। সম্পূর্ণরূপে আড়ালের একটা জিন্দেগিতে চলে গিয়েছে, দুনিয়ার জগতে তাদের আর আগমন হবে না। যেমনিভাবে তারা দুনিয়াতে আগমন করতে পারবে না, ঠিক তেমনিভাবে তারা আখিরাতের যে জিন্দেগি রয়েছে, পরবর্তী জীবন সে জীবনেও যেতে পারবে না। এখানেই তাদের অপেক্ষা করতে হবে।

কোরআনে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, এই বারজাখে তাদের অবস্থান করতে হবে, ওই পরবর্তী পুনরুত্থান পর্যন্ত, ওই দিবস পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।’ পুনরুত্থান পর্যন্ত সেখান থেকে তাদের কোনো ধরনের আগমন, বহির্গমন অথবা কোনো ধরনের তৎপরতা করার অধিকার তাদের থাকবে না।

সুরা মুমিনুন : ৯৯-১০৩ নাম্বার আয়াত দ্বারা সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে কোনো মানুষের পক্ষে মৃত্যুর পর পুনরায় দুনিয়াতে আগমন সম্ভব নয়।

যাদের মাটি দেয়া হয় না যাদের দেহ শকুন শেয়াল খেয়ে শেষ করে। অথবা যাদের মৃতদেহ সমাহিত করা হয়নি, চিতায় ভস্মীভূত করা হয়েছে অথবা বাঘের পেটে বা হাঙ্গরের উদরে হজম হয়ে গেছে, তাদের তো কবর নেই, তাদের কবর আজাব হবে কোথায়?

মৃত্যুর পর মৃতদেহ যেখানেই রাখা হোক না কেন কিংবা যেভাবেই রাখা হোক না কেন, সে কবরের অধিবাসী হয়ে যায়। বদকার হলে তার ওপর আজাব শুরু হয়ে যায়।

আর নেককার হলে তার জন্য জান্নাতের আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করা হয়। কবর মূলত কোনো গর্তের নাম নয়। বরং লাশকে যেখানেই দাফন করা হবে সেটাই তার কবর। আজাব হয় রুহের ওপর। আর দেহ সে আজাবের কষ্ট ভোগ করতে থাকে।

হাশরের ময়দানে বিচারের আগে দুনিয়াতে মৃত্যুর আগে এবং মৃত্যুর পর বারজাখী জিন্দেগীতে যে কোন অপরাধীকে যে কোন অবস্থায় শাস্তি দেয়ার অধিকার ও ক্ষমতা আল্লাহর অবশ্যই আছে।

কবর মানে সমাধি। ইসলামি বিধানমতে, মৃত ব্যক্তির দেহ দাফন বা সমাধিস্থ করা হয়। মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত তথা হাশর নাশর ও বিচার ফয়সালার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে বারজাখ বা অন্তর্বর্তী সময় বলা হয়। বারজাখ জীবনকে সাধারণভাবে কবর জীবন বলা হয়ে থাকে। কারণ, স্বাভাবিক অবস্থায় মৃতদেহ বা লাশ কবর দেওয়া হয়ে থাকে। যাদের বিশেষ কোনো কারণে কবর বা দাফন করা হবে না, তাদেরও বারজাখ জীবন একই রকম হবে। যদিও কবর বারজাখের সমার্থক নয়, তবু বারজাখ জীবন বোঝাতে কবর শব্দটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

হযরত মুসা (আ:) একদিন আল্লাহ কাছে জানতে চাইলেন তাঁর সাথে জান্নাতে কে থাকবে উত্তর আল্লাহ বললেন তোমার সাথে জান্নাতে থাকবেন এক কসাই?

মুসা (আ:) অবাক হয়ে আল্লাহর কাছে জানতে চাইলেন একজন কসাই তাঁর এমন কি আমল আছে যার কারনে আপনি আমার সাথে জান্নাতে বসবাস করতে দিবেন আমার অনেক জানতে ইচ্ছে করছে?

আল্লাহ বললেন হে মুসা তুমি যদি তা জানতে চাও তাহলে ওই কসায়ের কাছে যাও?

মুসা (আ:) আল্লাহর কথা মতন ওই কসায়ের কাছে গেলেন দুর থেকে দেখতে লাগলেন ওই কসাই কি করে?

কসাই গোসত বিক্রি শেষ হলে দোকান বন্ধ করে সামান্য কিছু গোসত নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেয়?

মুসা (আ:) তাঁর পিছনে পিছনে যায় কসাই বাড়িতে গিয়ে গোসত গুলো ছোট ছোট করে কেটে রান্না করে আর কিছু রুটি বানায়?

তাঁর পর ঘরে ঢুকে এক বৃদ্ধ মহিলাকে ধরে বসায় এবং তাঁর পর গোসত আর রুটি ছোট ছোট করে খাওয়াতে থাকে?

মুসা (আ:) অবাক হয়ে সব দেখতে থাকে কিছুক্ষন পর তিনি খেয়াল করেন ওই মহিলা কসাইয়ের কানে কানে কি যেনো বলছে আর কসাই তাঁর কথা শুনে মুসকি মুসকি হাসতেছে?

খাওয়া শেষ হলে কসাই বাহিরে আসে মুসা (আ:) তাঁর পরিচয় গোপন রেখে তাকে জিজ্ঞেস করে ভাই ওই বৃদ্ধ মহিলা আপনার কানে কানে কি বললো যা শুনে আপনি হাসলেন?

কসাই উত্তরে বললো উনি আমার মা আমি প্রতিদিন এই ভাবে আমার মাকে খাইয়ে দেই আর মা আমার কানে কানে বলে আল্লাহ তোমাকে মুসা নবীর সাথে জান্নাত দান করুক আর আমি আমার মায়ের কথা শুনে হাসি বলি কোথায় মুসা (আ:) আর কোথায় আমি?

মুসা (আ:) তাঁর কথা শুনে কাঁদতে থাকে আর তাকে বুকে জরিয়ে নিয়ে বলে তোমার মায়ের কথা আল্লাহ তায়ালা কবুল করেছে আমি মুসা যার সাথে তুমি জান্নাত বাসি হবে।


মুহাম্মদ অর্থ প্রশংসিত।
সালমান অর্থ নিরাপদ।
রহমান অর্থ পরম করুণাময়।



খরগোশের গোশত খাওয়া সম্পর্কে, মুহাম্মাদ ইবনে সাইফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ধারালো সাদা পাথর দিয়ে দুইটি খরগোশ যবেহ করে তা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসলাম। তিনি আমাকে তা আহারের নির্দেশ দিলেন।

(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বরঃ ৩১৭৫, সহীহ আবু দাউদঃ ২৫১৩। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। হাদিসের মানঃ সহিহ)।

হিশাম ইবনু যাইদ (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আনাস (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, আমরা একটি খরগোশকে মাররায-যাহরানে তাড়া করলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ এর পিছু ধাওয়া করলেন। আমি এর নাগালে পৌছে তা ধরে ফেললাম। আমি আবূ তালহা (রাঃ)-এর সামনে খরগোশটি নিয়ে আসলে তিনি একটি ধারালো পাথর দিয়ে তা যবেহ করেন। তিনি আমাকে এর উরু অথবা নিতম্বের গোশত দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাঠালে তিনি তা খেলেন। আমি (হিশাম) প্রশ্ন করলাম, তিনি কি তা খেয়েছেন? আনাস (রাঃ) বললেন, তিনি তা গ্রহণ করেছেন।

(সূনান আত তিরমিজী, হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৯ ইবনু মাজাহঃ ৩২৪৩ হাদিসের মানঃ সহিহ)।

এ বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, খরগোশের গোশত খাওয়া কেবল হালালই নয় বরং সুন্নতেরও অন্তর্ভুক্ত।

উল্লেখ্য, খরগোশের পা হরিণ বা গরু-ছাগলের মতো হোক কিংবা বিড়ালের মত হোক উভয় প্রকার পা বিশিষ্ট খরগোশই খাওয়া সম্পূর্ণ হালাল বলে ফতওয়া দেয়া হয়েছে। আর এটা শুধু হানাফী মাযহাবেই নয় বরং হানাফী, শাফেয়ী, হাম্বলী, মালেকী প্রত্যেক মাযহাবেই হালাল বলে ফতওয়া দেয়া হয়েছে।


হ্যাঁ, তানজিম ( ﺗﻨﻈﯿﻢ ) ইসলামিক নাম।


ঘুষ দেওয়া-নেওয়া সর্বাবস্তায় হারাম। কেননা হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহণকারী উভয়কে অভিসম্পাত করেছেন। (আবু দাউদঃ ৩৫৮২)।

তাই ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়া জায়েয হবে না। এতে একদিকে ঘুষ প্রদানের কবীরা গুনাহ হয়, অন্যদিকে ঘুষদাতা অযোগ্য হলে অন্য চাকরিপ্রার্থীর হক নষ্ট করারও গুনাহ হয়।

কিন্তু আপনি যা বলছেন, পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন। আপনার কাছে ঘুষ চাওয়া হয়েছে। ঘুষ না দিলে চাকরি না দিয়ে অযোগ্য কোন লোককে ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হবে। অর্থাৎ ঘুষ না দেওয়ার কারণে আপনাকে প্রাপ্য অধিকার (চাকরি) থেকে বঞ্চিত করা হবে। তাই বাধ্য হয়ে ঘুুুষ দিয়ে চাকরিটা নিয়ে নিজের অধিকার (চাকুরি) ধরে রাখায় এমতাবস্থায় ঘুষ দিতে পারেন।

যদি আপনি প্রার্থিত পদের যোগ্য হোন, যোগ্য হওয়া সত্বেও ঘুষ ছাড়া উক্ত পদ পাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে প্রয়োজনে ঘুষ দেওয়া জায়েজ আছে। এক্ষেত্রে ঘুষদাতা গোনাহগার হবে না, ঘুষগ্রহীতা গোনাহগার হবে।

অবশ্য কেউ যদি প্রকৃতপক্ষে চাকরির যোগ্য হয় এবং ঘুষ প্রদান হারাম হওয়া সত্বেও ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয় আর পরবর্তীতে সে যথাযথভাবে দায়িত্ব আঞ্জাম দেয় তাহলে এভাবে চাকরি নেওয়া পকৃতপক্ষে নাজায়েজ হলেও বেতন হালাল হয়ে যাবে।

কিন্তু যদি সে তার কর্মক্ষেত্রের অযোগ্য হয় এবং যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে তার জন্য ঐ চাকরিতে থাকা বৈধ হবে না। আর ঠিকমত দায়িত্ব পালন না করে বেতন নেওয়াও বৈধ হবে না।

সর্বশেষ কথাঃ কোন ব্যক্তি যদি চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিয়ে ইন্টারভিউতে দেখা গেলো সে ঐ চাকরি করার সম্পুর্ণ উপযোগী। কিন্তু চাকরিটা পেতে হলে, তাকে ঘুষ দিতেই হবে। এক্ষেত্রে সে ঘুষ দিতে পারবে।

কেননা, জান-মাল ও ইজ্জত রক্ষা করার জন্য বা বৈধ জিনিস অর্জন করার জন্য অপারগ হয়ে ঘুষ দেয়ার অবকাশ আছে।



কেউ দাঁড়ি রাখাকে অপছন্দ করলে সে কাফের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। 

কোন মানুষ যদি দাঁড়িকে রাখাকে অপছন্দ করে বা তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে অথবা দাঁড়িওয়ালা মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, তবে সম্ভাবনা আছে একারণে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে কুফরীতে লিপ্ত হবে এবং মুরতাদ হয়ে যাবে। 

কেননা নবী করীম (সাঃ) যা নিয়ে এসেছেন তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা বা ব্যঙ্গ করা বা তা ঘৃণা ও অপছন্দ করা ইসলাম ভঙ্গ হওয়ার অন্যতম একটি কারণ। 

আল্লাহ তায়ালা বলেন, এই কারণে যে, তারা এমন বস্তুর অনুসরণ করেছে যার প্রতি আল্লাহ রাগাম্বিত। আর তারা তার সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছে। ফলে তিনি তাদের আমলগুলো বরবাদ করে দিয়েছেন। [ সূরা মুহাম্মাদঃ ২৮] 

যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত দ্বীন ইসলাম বা ইসলামের কোন অংশকে, কুরআনুল কারীম বা এর কোন আয়াত, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অথবা কোন একজন নবী অথবা রাসূলকে অস্বীকার করে, ইসলামি আকিদাহ বা এর মৌলিক কোন ধর্মীয় বিশ্বাস বা অকাট্য দলিল দিয়ে প্রমানিত ইসলামের কোন বিধি-বিধানকে অস্বীকার করে, অবিশ্বাস করে, প্রত্যাখ্যান অথবা এইগুলো নিয়ে হাসি-ঠাট্টা বা অবজ্ঞা করে, নিঃসন্দেহে সে ব্যক্তি একজন কাফের।



প্রকৃতপক্ষে দলিল মোতাবেক বাংলা উচ্চারণে তাহাজ্জুদ নামাজের কোন নিয়ত নেই।

অনেকেই সাধারণত তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত যেমন,

ﻧَﻮَﻳْﺖُ ﺍَﻥْ ﺍُﺻَﻠِّﻰَ ﺭَﻛَﻌَﺘِﻰ ﺍﻟﺘَّﻬَﺠُّﺪِ - ﺍَﻟﻠﻪُ ﺍَﻛْﺒَﺮ

অর্থ : দুই রাকাআত তাহাজ্জুদের নিয়ত করছি। মুখে এই নিয়ত বলার কোন দলিল নেই।


আমরা সবাই জানি, সকল জীব জন্তুর জান কবয করেন মালাকুল মাউত অর্থাৎ আজরাঈল (আঃ)।

কিন্তু মালাকুল মাউত মানুষের মত অন্যান্য জীব জন্তুর প্রাণ কবয করেন কিনা তা নিয়ে একাধিক মত পাওয়া যায়।

ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, তিনি অন্যান্য কীট-পতঙ্গেরও প্রাণ কবয করে থাকেন। কিন্তু কতিপয় বর্ণনা দ্বারা জানা যায় ফেরেশতাগণের দ্বারা আত্মার বিয়োগ ঘটানো কেবল মানুষের জন্য নির্দিষ্ট তাদের মর্যাদার দিকে লক্ষ্য রেখে। অন্যান্য জীব-জন্তু আল্লাহ তাআলার অনুমতিতে মারা যায়।

কেননা, প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা “মালাকুল মাউত” ফেরেশতাকে তিনি এ কাজে নিযুক্ত রেখেছেন আর অন্যান্য যারা আছে তারা হলো মালাকুল মাউতের সাহায্যকারী। আল্লাহ তাআলার অনুমতি ব্যতীত মৃত্যুদান করার ক্ষমতা কারো নেই।

আল্লাহ তাআলার বাণী: আর আল্লাহর আদেশ ব্যতীত ধার্যকৃত লিপিবদ্ধ নির্দিষ্ট সময়ে কেউই মৃত্যু বরণ করে না। (সূরা আলি ইমরানঃ ৩: ১৪৫)।

আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহ জীব সমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময়। (যুমারঃ ৩৯/৪২; কুরতুবী, তাফসীর সূরা সাজদাহঃ ১১)।

আল্লাহ আআলা বলেন, হে রাসূল! আপনি বলে দিন যে, মালাকুল মাউত তোমাদের জান কবয করে থাকে। যাকে তোমাদের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে। অতঃপর তোমরা সকলে তোমাদের পালনকর্তার নিকট ফিরে আসবে। (আস সাজদাহঃ ৩২/১১)।

এখানে সেরা সৃষ্টি হিসাবে মানুষকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। যার মধ্যে অন্য সকল সৃষ্টি শামিল রয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন বর্ননা মতে যা পাওয়া যায়ঃ

পৃথিবী ধ্বংস হবার প্রাক্কালে হযরত আজরাঈল (আঃ) আরশ বহনকারী চারজন ফেরেশতা ও অন্য প্রধান তিন জন ফেরেসতা ব্যতীত সকল প্রাণীর আত্মা কবয করবেন। পরে কিয়ামত তথা পুনরুত্থানের পূর্বে তার জানও কবয করে ফেলবেন।

আজরাঈল (আঃ) সকল প্রাণীর আত্মা কবয করে, অবশেষে নিজের আত্মা নিজেই কবয করবেন। যখন তিনি সকল জীবজন্তু, জিন ফেরেশতা, সবারই আত্মা কবয করে শেষ করবেন। তখন আল্লাহ তায়ালা বলবেন, হে আজরাঈল এবার তোমার নিজের আত্মা নিজে কবয করো।

সর্বশেষ কথা হলো, মানুষের জান কবয যেমন আজরাঈল (আঃ) করেন তেমন পশু পাখির জান-ও কবয করেন আজরাঈল (আঃ)। আর এটাই প্রসিদ্ধ মত।

এছাড়া মালাকুল মাউত অন্যান্য প্রাণীর জান কবয করেন না বলে যে বর্ণনা রয়েছে তা মওযূ বা জাল। (সিলসিলা যঈফাহঃ ১৬৯৩)।


আপনার মা যা করছে সেটা অভিমান। আর বাবা যখন মাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য একজনকে পছন্দ করে বিয়ে করেন, এটা ছিল বাবার ভুল।

কিন্তু মাঝে থেকে আপনিতো কোন ভুল করেন নি। শুধু ভুল একটাই মায়ের পরের স্বামী কে বাবা বলা। নিজের জন্মদাতা বাবা ছাড়া অন্য কাউকে বাবা বলা জায়েয নেই।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি আপন পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে মেনে নেয় অথচ সে জানে যে, সে তার পিতা নয়, তার জন্য জান্নাত হারাম। (সহীহ মুসলিম হাদিসঃ ১২৩)।

এখন আপনার পথ দুইটিঃ

☞ যদি বাবার কাছে যান তাহলে মা কষ্ট পাবে। মা সন্তানের জন্য সর্বাধিক উদ্বিগ্ন থাকে এবং তাকে সর্বাধিক স্নেহ ও আদর যত্ন করে। সন্তান গর্ভে ধারণ, দুধ খাওয়ানো, লালন-পালন এবং রাত জেগে তত্ত্বাবধান-এই কষ্টকর কাজগুলো একমাত্র মা-ই সন্তানের জন্য করে থাকেন। তাই মাকে কষ্ট না দিয়ে মায়ের কথাই শুনুন। অভিমান ভাঙলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

☞ ইসলামিকভাবে বাবার সাথে সম্পর্ক নষ্ট করা উচিত হবেনা। যদিও বাবা বেশি একটা খোজ খবর নিতো না তবুও তিনি জন্মদাতা পিতা।

এখন করণীয় হচ্ছে, পরিস্থিতি সাপেক্ষ পিতার সাথে সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলা। কেননা, মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে সম্পত্তি পাবেন আপনার জন্মদাতা পিতার কাছ থেকেই। একই ভাবে সৎ বাবার কাছ থেকে কোন সম্পত্তি পাবেন না।


চতুর্থ বিষয়ে ফেল করলে কিছুই হবে না।

চতুর্থ বিষয়ে ফেল করলে মুল রেজাল্টের উপর কোনো প্রভাব পড়বে না। কেউ যদি চতুর্থ বিষয়ে ফেল করে তিনি শুধু বোনাস মার্ক পাবেন না। তিনি পরীক্ষায় পাস করে যাবেন।

চতুর্থ বিষয় হলো অতিরিক্ত সাবজেক্ট। কেউ যদি চতুর্থ বিষয়ে ৫.০০ পয়েন্ট পায় তাহলে ৫.০০ পয়েন্ট থেকে ২.০০ পয়েন্ট বিয়োগ করা হবে। অবশিষ্ট ৩.০০ পয়েন্ট মূল রেজাল্ট এর সাথে যোগ হবে।

অর্থাৎ চতুর্থ বিষয়ে যে পয়েন্ট অর্জন করবেন তা থেকে ২.০০ পয়েন্ট বিয়োগ করা হবে আর অবশিষ্ট পয়েন্ট মূল রেজাল্ট এর সাথে যুক্ত হবে। কিন্তু ফেল করলে এই পয়েন্ট যোগ হবে না।

তাহলে, A+ (৫.০০) গ্রেড পেলে ৩.০০ পয়েন্ট যোগ হবে।

A (৪.০০) গ্রেড পেলে ২.০০ পয়েন্ট যোগ হবে।

A- (৩.৫) গ্রেড পেলে ১.৫ পয়েন্ট যোগ হবে।

B (৩.০০) গ্রেড পেলে ১.০০ পয়েন্ট যোগ হবে।

C / D (২.০০/১.০০) গ্রেড পেলে বা ফেল করলে কিছুই যোগ হবে না।


চাল থেকে R বাদ দিয়ে বরফ বানাবো।


আমরা জানি, Rice অর্থঃ চাল। এই Rice থেকে R অক্ষর বাদ দিলে হবে Ice যার অর্থঃ বরফ।



একজন দরিদ্র হিন্দু ছেলে একজন মুসলিম মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েকে প্রচণ্ড ভালোবেসে ফেলা সত্ত্বেও কিছুই বলতে পারছে না নিজের আর্থিক অবস্থা, ধর্ম ও সমাজের কথা চিন্তা করে। এটাই সাভাবিক।

তিনি আর্থিক অবস্থার দিক থেকে হয়ত একদিন এগিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু ধর্ম ও সমাজের দিক চিন্তা করে তাকে পিছিয়েই থাকতে হবে। তিনি যে কল্পনা করছে তা বাস্তবে রুপ নেবেনা। কেননা, মেয়েটি মুসলিম।

এইক্ষেত্রে ছেলেকে যা করা উচিত:

ইসলাম অবৈধ প্রেম ভালবাসাকে অনুমোদন দেয় না, এ ধরনের কাজে লিপ্ত হওয়া মোটেই উচিত নয়। একজন হিন্দু ছেলে হয়ে একজন মুসলিম পরিবারের মেয়েকে ভালোবাসার কল্পনা করা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। প্রথমত এই প্রেমের ভুত মাথা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।

দ্বিতীয়ত হিন্দু ছেলে মুসলিম হয়ে হয়ে তারপর একজন মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখে এটা ভিন্ন কথা। এক্ষেত্রে মেয়েটি তার কথায় শায় দিতে পারে। এজন্য মেয়েটির সাথে তাকে আলাপ করতে হবে অন্যথায় নয়।


পাপ করলে তার শাস্তি অবশ্যই ভোগ করতে হবে। অধিকাংশ পাপের শাস্তি হবে পরকালে। তবে কিছু পাপের শাস্তি দুনিয়াতেও ভোগ করতে হয়।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে মন্দ কাজ করবে, তাকে সেই কাজের শাস্তি ভোগ করতে হবে। (সূরা নিসা, আয়াত ১২৩)।

আল্লাহ তায়ালা কোনো কোনো পাপের শাস্তি দুনিয়ায়ও দিয়ে থাকেন। আবার কোনো কোনো পাপের শাস্তি দিতে পরকালের জন্য বিলম্ব করেন। কিছু জঘন্যতম পাপের শাস্তি আল্লাহ তাআলা দুনিয়ায়ই দিয়ে থাকেন। তার মধ্যে দুইটি শাস্তির কথা উপস্থাপন করা হলোঃ

১। কোনো জাতির মধ্যে অশ্লীলতা বিস্তারলাভ করলে তাদের মধ্যে মহামারী ছড়িয়ে পড়ে। এটাই হচ্ছে দুনিয়াতে অপরাধ বা পাপের শাস্তি।

আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগরোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকেদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি।

যখন কোন জাতি ওযন ও পরিমাপে কারচুপি করে তখন তাদের উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বিপদ-মুসীবত এবং যাকাত আদায় করে না তখন আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ করে দেয়া হয়। যদি ভূ-পৃষ্ঠি চতুস্পদ জন্তু ও নির্বাক প্রাণী না থাকতো তাহলে আর কখনো বৃষ্টিপাত হতো না।

যখন কোন জাতি আল্লাহ ও তার রাসূলের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন আল্লাহ তাদের উপর তাদের বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাশীন করেন এবং সে তাদের সহায়-সম্পদ সবকিছু কেড়ে নেয়। যখন তোমাদের শাসকবর্গ আল্লাহর কিতাব মোতাবেক মীমাংসা করে না এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানকে গ্রহণ করে না, তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেন।

(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বরঃ ৪০১৯ সহীহাহঃ ১০৬)।

২। ব্যভিচার করা : ব্যভিচার করা মারাত্মক গুনাহ। আল্লাহ তায়ালা ব্যভিচারের কাছেও যেতে নিষেধ করেছেন।

ব্যভিচারের শাস্তি দুনিয়াতে মারাত্মক। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, (অবিবাহিত) ব্যভিচারী পুরুষ ও ব্যভিচারিণী নারী উভয়কে ১০০ করে বেত্রাঘাত করো। (সুরা: আন নূর: ২)।

আর বিবাহিত হলে তাদের শাস্তি হলো, কোমর পর্যন্ত মাটির নিচে পুঁতে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা।

উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার নিকট হতে তোমরা জেনে নাও। তাদের (যিনাকারীদের) জন্য আল্লাহ তায়ালা একটি রাস্তা করে দিয়েছেন। বিবাহিত পুরুষ ও স্ত্রীলোক পরস্পর যিনা করলে তাদের প্রত্যেককে একশত ঘা চাবুক মারতে হবে, তারপর পাথর মেরে হত্যা করতে হবে। অবিবাহিত পুরুষ বা স্ত্রীলোক যিনা করলে তাদের প্রত্যেককে একশত ঘা চাবুক মারতে হবে এবং এক বছরের নির্বাসনে পাঠাতে হবে।

(সূনান আত তিরমিজী, হাদিস নম্বরঃ ১৪৩৪ ইবনু মা-জাহঃ ২৫৫০ হাদিসের মানঃ সহিহ)।


আল্লাহ তায়ালার নামে শিরকমূলক এবং গালিমূলক কথা বলার আগে এবং পরে কেউ নিজেই নিজের জন্য আল্লাহর কাছে শাস্তি চায় এবং আল্লাহকে বলে আমি যে শাস্তি চাইলাম এই শাস্তি বিষয়ক কোনো কথা যেমন নিজের কামনাকৃত শাস্তিটি মওকুফ বিষয়ক কোনো কথা তুমি (আল্লাহ) গ্রহণ করবা না। এমন কথাতো আল্লাহ শুনবেন না। কারন তিনি দুনিয়ার বাদশা নয় যে, তিনি আপনার কথা মত চলবে।

কেননা, পাপ করলে শাস্তি পেতেই হবে।  আল্লাহ তায়ালাকে গালমন্দ করা সকল কুফরি অপেক্ষা বড় কুফরি। এই পাপের কোন ক্ষমা নেই।

পাপ করলে তার শাস্তি অবশ্যই ভোগ করতে হবে। অধিকাংশ পাপের শাস্তি হবে পরকালে। তবে কিছু পাপের শাস্তি দুনিয়াতেও ভোগ করতে হয়।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, যে মন্দ কাজ করবে, তাকে সেই কাজের শাস্তি ভোগ করতে হবে। (সূরা নিসা, আয়াত ১২৩)।

তাই যেকোন পাপ কাজ করার আগেই ভাবতে হবে। সেই পাপ থেকে ফিরে আসতে হবে। আল্লাহ তায়লাকে সর্বদা ভয় করতে হবে। কুরআনের বানীঃ আলাহকে ভয় কর, আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর। (সুরা মায়িদাহঃ ২)।

তবে কেউ নিজের পাপকৃত শাস্তিটি থেকে বাঁচতে যা করতে পারেঃ

মহান আল্লাহ তায়ালার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো শাস্তি শিরকমূলক বা গালিমূলক হোক তওবা করলে আল্লাহ তায়ালা তা মাফ করে দেন। এ বিষয়টি যেকোনো মাজহাব এবং ইসলামের সকল দল মত নির্বিশেষে সমর্থিত এ বিষয়টি নিয়ে কোন মতভেদ নেই।

তবে উলামা সম্প্রদায়ের উক্তি এই যে, প্রত্যেক পাপ থেকে তওবা করা ওয়াজিব। তওবা কবুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে।

১। পাপ সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে।

২। পাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে।

৩। ঐ পাপ আগামীতে দ্বিতীয়বার না করার দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে। সুতরাং যদি এর মধ্যে একটি শর্তও লুপ্ত হয়, তাহলে সেই তওবা বিশুদ্ধ হবে না।


ফাও হচ্ছে আসল পরিমাণের অতিরিক্ত কিছু; মূল্যের বদলে প্রাপ্য বস্তুর চেয়ে বাড়তি সামান্য কিছু।

ফাও না দিলে মা মরে ইসলামে এই কথার কোন ভিত্তি নেই। এটা কুসংস্কার ছাড়া আর কিছু নয়।

আপনার ফুপিকে একটা সাবান দিতে চান দিয়ে দিন। কুসংস্কার বলে নিছক ধারণা ও কল্পনা ভিত্তিক প্রমাণহীন বিশ্বাস এবং সেই বিশ্বাস-প্রসূত ভিত্তিহীন প্রথা ও কর্ম থেকে বেরিয়ে আসুন।


ইসলামে যে সমস্ত বিষয়ের ওপর ঈমান আনয়ন অপরিহার্য করা হয়েছে তার মধ্যে তাকদিরও রয়েছে। আর কুসংস্কার তাকদিরকে রদ করতে পারেনা।


ইসলাম একজন পুরুষকে অবিবাহিত অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করার অনুমতি দেয় না।

তবে একজন পুরুষের জন্য বিবাহ হারাম তখন যখন তার স্ত্রীর অধিকার রক্ষার সামর্থ্য না থাকে। এ সামর্থ্যহীনতা দৈহিক বা অর্থনৈতিক যেটাই হোক না না কেন।

কোন পুরুষ যদি দৈহিক মিলনে অক্ষম হয় বা স্ত্রীর ভরণ-পোষণের ব্যয় বহনের মতো অর্থনৈতিক সামর্থ্য তার না থাকে তবে তার জন্য বিবাহ বৈধ নয়।

তবে এক্ষেত্রে তার জন্য কোন কাফফারা আদায় করতে হবে না।


আরবি দুআ:

ﺍَﻟﻠّﻬُﻢَّ ﺇِﻧّﻲْ ﺍَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺧَﻴْﺮَﻫَﺎ ﻭَﺧَﻴْﺮَ ﻣَﺎ ﺟُﺒِﻠَﺖْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ , ﻭَﺃَﻋُﻮْﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّﻫَﺎ ﻭَﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺟُﺒِﻠَﺖْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা যুবিলাত আলাইহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররি হা ওয়া শাররি মা যুবিলাত আলাইহি।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ইহার কল্যাণ ও বরকত এবং ইহার স্বভাবের কল্যাণ ও বরকত কামনা করিতেছি এবং তাহার অনিষ্ঠ হইতে ও তাহার সৃষ্টিগত স্বভাবের অনিষ্ঠ হইতে পানাহ চাইতেছি।



হস্তমৈথুনের চেয়ে মদ খাওয়াতে গুনাহ বেশী হবে। কেননা, মদ খাওয়া কুরআন সুন্নাহ মতে প্রকাশ্য হারাম।

কৃত্রিম-মৈথুন বা হস্তমৈথুন অত বড় মহাপাপ না হলেও যা স্বাস্থ্যের পক্ষে দারুন ক্ষতি ও হানিকর এবং তা হারাম।



একজন ইমাম এক সালাতের একাধিক জামাতের ইমামতী করতে পারে না। করলে প্রথমটির পরের বাকি জামাত বিশুদ্ধ হবে না।

এক ইমাম যখন প্রথমে একটি ঈদের সালাতের ইমামতী করল, এর মানে তার যিম্মা থেকে ওয়াজিব আদায় হয়ে গেছে। এরপর সে যদি আবার নামায পড়াতে যায়, তাহলে সেটি হবে নফল।

আর তার পিছনে দ্বিতীয় জামাতে যারা শরীক হবে, তাদের নিয়ত থাকবে ওয়াজিব আদায় করা, আর ইমাম আদায় করছে নফল। ইমাম ও মুক্তাদীর নামাযই আলাদা। একজনের নফল। আরেক জনের ওয়াজিব। দুইটি ভিন্ন নামাযের মাঝে একজন আরেক জনের ইক্তিদা কিভাবে করতে পারে?

তাই দ্বিতীয় জামাতে যারা উক্তি ইমামের পিছনে নামায আদায় করবে, তাদের কারো ঈদের সালাত আদায় হবে না।

এক সালাতের ইমামতী দুইবার করা যায় না। অর্থাৎ এক সালাত একবার আদায়ের পর, সেটির ইমামতী আবার করা যায় না।


তাবেয়ী হচ্ছেন, যারা নবুয়তি যুগের পরে এসেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেননি। কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের সঙ্গ পেয়েছেন।


তাবে-তাবেয়ী হচ্ছেন, যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের সাক্ষাত লাভ করেনি; তাবেয়ীগণের সাক্ষাত লাভ করেছেন এবং তাদের সঙ্গ পেয়েছেন।

সুরা ফাতিহার পর ‘আমীন’ বলা সুন্নাত। হানাফী মাজহাবের সকল ইমাম সুরা ফাতিহা শেষে আস্তেই আমিন বলে।

মুক্তাদীগন আস্তে না জোড়ে আমিন বলবে এই ব্যাপারে ফকীহ ও ইমামগণের মতভেদ আছেঃ

আমীন কি আস্তে উচ্চারণ করা হবে, না জোরে। এটা মূলত ‘তানাওউয়ে সুন্নাহ’ বা সুন্নাহর বিভিন্নতা, যাকে ইখতিলাফে মুবাহও বলা হয় অর্থাৎ এখানে দুটি নিয়মই মোবাহ ও বৈধ এবং যে নিয়মই অনুসরণ করা হোক সুন্নাত আদায় হবে।

হানাফী মাজহাব মতে, সুরা ফাতিহা শেষে আস্তে আমিন বলতে হবে।

ঈদের সালাত একা একা আদায় করতে পারবে কি না এ বিষয়ে দুইটি মতামত রয়েছে।

☞ প্রথম: ইমাম শাফেয়ী, হাম্বালী, মালেকী
ও বেশির ভাগ স্কলারদের মতামতে বলা হয়েছে কেউ যদি মসজিদে বা ঈদগাহে জামাআতে ঈদের সালাত মিস করে তাহলে সে বাসায় একা একা ঈদের সালাত পড়তে পারবে।

☞ কিন্তু ২য় মত অর্থাৎ হানাফী মত অনুযায়ী কেউ যদি মসজিদে বা ঈদগাহে ঈদের সালাত পড়তে না
পাড়ে তাহলে তার আর ঈদের সালাত পড়া লাগবে না। তার মতে ঈদের সালাত একটা সামাজিক ইবাদত।

ঈদের নামাজের হুকুমের ক্ষেত্রেও স্কলারদের মতভেদ রয়েছেঃ

☞ মালেকী ও শাফেয়ী মাজহাব মতে ঈদের সালাত কে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

☞ হাম্বালী মাজহাব মতে এটি ফরজে
কেফায়া। অর্থাৎ এলাকার কিছু মানুষ যদি
পালন করে তাহলে এলাকার অন্যদের
আর পড়া লাগবে না।

☞ হানাফী মাজহাব মতে ঈদের সালাত
আদায় করা ওয়াজিব।


হানাফী মাজহাব মতে জামাআত ছাড়া ঘরে একাকী ঈদের সালাত আদায় করা যাবে না। এখানে শুধু স্কলারদের মতভেদ গুলি উল্লেখ করা হলো। ঈদের সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে যে যেই মাজহাব মানেন তিনি সেই মাজহাব অনুযায়ী-ই সেই মতকে প্রাধান্য দিবেন।