4 Answers
প্রথমে তাকে ইসলামের সকল মৌলিক বিষয় সঠিকভাবে মেনে নিতে হবে।তারপর অনুতপ্ত মনে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।আর কখনো যে কাজের জন্য তওবা করল সে কাজ করা যাবে না।এমনভাবে তওবা করলে কবুল হবে।
বান্দা কবিরা গুনাহ করার পর অনুতপ্ত হয়ে তওবা করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। কিন্ত যাদের মধ্যে মুনাফিকের দোষ বিদ্যমান। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন অথবা না করুন, উভয়ই তাদের জন্য সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনও ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। (সূরা আল মুনাফিকুনঃ ৬) আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্যের কথা এখানে তুলে ধরে বলছেন। এদেরকে যদি বলা হয়, তোমরা তোমাদের কৃত অপরাধ ও কুফরীর জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট যাও, তিনি তোমাদের জন্য ক্ষমা চাইবেন। অথচ তারা ক্ষমা না চেয়ে উদ্ধত্য ও বড়ত্ব প্রকাশ করে মাথা ফিরিয়ে নিবে। তারা কখনো ক্ষমা চাইবে না। কারণ তারা ক্ষমা চাইলেই নিজেদেরকে অপমানিত মনে করবে। আল্লাহ তাআলা বলছেন তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্ষমা চান আর না চান তিনি ক্ষমা করবে না। জনাব! যাদের তওবা কবুলযোগ্য নয়। ১. যারা শিরকে লিপ্ত হয়। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, আল্লাহ তার শরিক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এটা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যে কেউ আল্লাহর শরিক করে সে এক মহাপাপ করে। (সূরা আন নিসাঃ ৪৮) ২. যাদের মধ্যে মুনাফিকের দোষ বিদ্যমান। উপরিউক্ত সূরা আল মুনাফিকুন এর ৬ নাম্বার আয়াত। ৩. যারা সীমালঙ্ঘন করে। আল্লাহ বলেন, যারা কুফরি করেছে ও সীমালঙ্ঘন করেছে আল্লাহ তাদেরকে কখনও ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোনো পথও দেখাবেন না। (সূরা আন নিসাঃ ১৬৮) ৪. ঈমান আনার পরও যারা পুনঃ পুনঃ কুফরি করে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ কোরআন কারিমে ইরশাদ করেন, যারা ঈমান আনে ও পরে কুফরি করে এবং আবার ঈমান আনে, আবার কুফরি করে। অতঃপর তাদের কুফরি বৃদ্ধি পায়, আল্লাহ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোনো পথে পরিচালিত করবেন না। (সূরা আন নিসাঃ ১৩৭) ৫. যারা কুফরি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। মহান আল্লাহ বলেন, যারা কুফরি করে ও আল্লাহর পথ হতে মানুষকে নিবৃত্ত করে, অতঃপর কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না। (সূরা মুহাম্মদঃ ৩৪)
মুনাফিককে তওবা করার আগে মুনাফিকএর মুনাফিকি দোষ যথা:কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলা,আমানতের খিয়ানত করা,ওয়াদা ভঙ্গ করা(বুখারি,মূসলিম) এই তিনটি দোষ দূর করতে হবে এবং তারপর তওবা করতে হবে।তবেই তওবা সঠিক হবে ।কারণ আগে তওবা করলে মুনাফিক উক্ত দোষ নাও ছাড়তে পারে এবং একই ভুল বারবার করবে।(ফতুয়া)
মোনাফিক কে অবশ্যই মোনাফিকি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে গোনাহ বা অন্যায় কাজ থেকে তাওবা করা আবশ্যক কর্তব্য। ওলামায়ে কেরাম তাওবা করাকে ওয়াজিব বলেছেন। গোনাহ যদি আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যকার বিষয় হয় এবং কোনো বান্দার সম্পৃক্ততা না থাকে, তবে তাওবা কবুল হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত পালন করা আবশ্যক। যা তুলে ধরা হলো- প্রথম শর্ত- বান্দাকে গোনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত- বান্দাকে কৃত গোনাহের জন্যে আল্লাহর নিকট অনুতপ্ত হতে হবে। তৃতীয় শর্ত- পুনরায় গোনাহ না করার ব্যাপারে বান্দাকে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। এই তিনটি শর্তের মধ্যে যদি একটি শর্তও লংঘন হয় তাহলে তাওবা কখনো শুদ্ধ হবে না। পক্ষান্তরে গোনাহের কাজটি যদি বান্দার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তবে সে ক্ষেত্রে উপরোল্লিখিত তিনটি শর্তের সঙ্গে আরো একটি শর্ত যুক্ত হবে। চতুর্থ শর্ত- অপরাধী ব্যক্তি হকদার ব্যক্তির হক আদায় করতে হবে। যেমন- কেউ যদি অন্যায়ভাবে ধন-মাল বা বিষয়-সম্পত্তি জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে দখল করে নেয়, তবে তা ফেরত দিতে হবে। কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিলে অপরাধীকে নির্দিষ্ট হদ বা শাস্তি ভোগ করতে হবে, নতুবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। এমনকি কারো অনুপস্থিতিতে গীবত-শেকায়াত করলে সে ব্যাপারেও ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে।