আল্লাহ তালা বলেছেন আমার নিকট চাও আমি তোমাদের দিব। 


আমি আল্লাহ এর কাছে চাই কিন্ত তিনি পরিপূর্ন ভাবে দিতে  চান না। দেন তবে বলার উপায় নেই যে তিনি দেননি। আবার দুয়া না পারতে কবুল করেন তবে তা সীমাবধ। আবার কিছু করেন ই না । 


কি ভাবে ১০০% দুয়া কবুল হয় জানতে চাই ? 

3085 views

6 Answers

দোয়া কবুল হবার প্রধান শর্ত হলো এককভাবে আল্লাহর কাছে চাওয়া এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করা।

3085 views

আপনি একটি বিষয় মাথায় রাখবেন আল্লাহ যা চায় তাই হয়, আর তিনি যা দেয় তা পুরাটাই মঙ্গল। তাই আপনার উচিত যতটুকু পান তা নিয়েই খুশি হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।

3085 views

দোয়া কবুলের কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে। যেমন,  হালাল খাবার খাওয়া, অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে চাওয়া, রোনাজারি করে চাওয়া, খালেস নিয়তে চাওয়া ইত্যাদি। এবং কিছু উত্তম সময় ও রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা হয়তো বা আপনাকে এর মাধ্যমের পরীক্ষা করছেন। আপনি যা পান তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকুন এবং আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করুন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়। সুতরাং আপনি চাওয়ার মত চান। 

3085 views

মুসলমান হিসেবে আমরা কমেবেশি সবাই দোয়া করি। এটা অনেকটা স্বভাবজাত বিষয়। তবে দোয়া করার সময় বেশ কয়েকটি বিষয়ের প্রতি গভীরভাবে খেয়াল রাখা দরকার। এগুলোকে আলেমরা দোয়া কবুলের শর্ত ও আদব বলে অভিহিত করেছেন। পবিত্রতা অর্জন: পবিত্রতা অর্জনের পর দোয়া করলে আল্লাহতায়ালা সেই দোয়া কবুল করবেন। বিনয়ের সঙ্গে দোয়া করা: বিনয়ের সঙ্গে দু’হাত তুলে দোয়া করা। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালার নিকট হাত তুলে হাতের তালু সামনে রেখে দোয়া কর। হাত উল্টো করো না। দোয়ার শেষে উত্তোলিত হাত মুখমন্ডলে বুলিয়ে নাও।’ -আবু দাউদ মিনতিভরা কন্ঠে দোয়া করা: মিনতি ও নম্রতার সঙ্গে দোয়া করলে তা ইবাদত হিসেবে গন্য হয়। রাসূলে মকবুল (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া সব ইবাদতের মজ্জা ও সারাংশ।’ দাসত্বের পরিচয় প্রদানই ইবাদতের উদ্দেশ্য। বান্দার নিজের দীনতা ও অক্ষমতা বুঝতে পারা এবং আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও অপার মহিমা উপলব্দি করার মধ্যেই দাসত্বের প্রকাশ ঘটে। দোয়ার মাধ্যমে এ দু’টি বিষয়ের পরিচয় পাওয়া যায়। অর্থাৎ নিজের অক্ষমতা ও অসহায়ত্ব এবং আল্লাহর অপ্রতিহত ক্ষমতা, অপার মহিমা ও প্রতাপ অন্তরে স্থান পাওয়া আবশ্যক। দীনতা ও নম্রতা দোয়ার মধ্যে যত অধিক হবে ততই মঙ্গল। দু’হাত তুলে দোয়া করা: বিনয়, নম্রতা ও দাসত্ব প্রকাশ করার জন্য দোয়ার সময় দু’হাতের তালু আসমানের দিকে রাখতে হবে এবং হাত সম্পূর্ণ সম্প্রসারিত করে দু’হাতের মধ্যে ২/১ আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁক রাখতে হবে। হাত কচলানো, রশি পাকানোর মতো হাতের তালু ঘষাঘষি করা দোয়ার আদবের খেলাপ। মনে রাখবেন, আপনি শাহানশাহেরর দরবারে হাত তুলেছেন, তাই এখানে কোনো ধরনের অমনোযোগিতা কাম্য নয়। এছাড়া দোয়া শেষে দু’হাত তুলে দোয়া করে দোয়া শেষে হাত দু’টি মুখমন্ডলে মুছে নিবে। হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, ‘যে হাত আল্লাহর দরবারে উত্তোলিত হয়, তা একেবারে শূণ্য অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে তিনি লজ্জাবোধ করেন।’ আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ শরীফসহ দোয়া করা : আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ শরীফসহ দোয়া করা। আল্লাহর প্রশংসা যেমন, ‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন’ দোয়ার শুরুতে বলা। এছাড়া ইসমে আজমের সহিত দোয়া করা উত্তম। হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ইসমে আজম এই আয়াতদ্বয়ে রয়েছে- ১. ‘ওয়া ইলাহুকুম ইলাহু ওয়াহিদুন লা ইলাহা ইল্লা হুয়ার রাহমানুর রাহিম।’ -সূরা বাক্বারা : ১৬৩ ২. ‘আলীফ লাম মীম। আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম।’ -সূরা আল ইমরান : ১ হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদিন রাসূলে কারিম (সা.)-এর নিকট বসেছিলাম। একজন লোক সেখানে নামাজ পড়ছিল। সে তার দোয়ার মধ্যে আরজ করল, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার প্রয়োজন প্রার্থনা করছি এই ওসিলায় যে, প্রশংসা ও গুনকীর্তণ আপনার জন্যই উপযুক্ত। আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। আপনি পরম দয়ালু ও অসীম অনুগ্রহদাতা এবং পৃথিবী ও আকাশ মন্ডলীর স্রষ্টা। আমি আপনার কাছেই আপনার অনুগ্রহ চাই। ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যু! ইয়া জালজালালী ওয়াল ইকরাম! রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, এ বান্দা আল্লাহর ইসমে আজমের ওসিলায় দোয়া করেছে। এ ওসিলায় আল্লাহর কাছে দোয়া করলে দোয়া কবুল হয় এবং আল্লাহর কাছে কোনো কিছু চাইলে, আল্লাহ তা দান করেন। -তিরমিজি হজরত ফুজালা ইবনে উবায়দা (রা.) বর্ননা করেন, রাসূলে কারিম (সা.) এক ব্যক্তিকে দোয়া করতে শুনলেন। সে দোয়ায় আল্লাহপাকের প্রশংসা করল না এবং রাসূল (সা.)-এর ওপর দরুদও পাঠ করল না। এতে রাসূলে আকরাম (সা.) বললেন, লোকটি তড়িঘড়ি করে দোয়া করেছে। তিনি লোকটিকে ডেকে আনলেন এবং তাকে অথবা উপস্থিত লোকদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘যখন তোমাদের কেউ নামাজ পড়ে তখন দোয়া করার পূর্বে তার উচিত আল্লাহতায়ালার প্রশংসা করে নেয়া ও রাসূলের প্রতি দরুদ পাঠ করা। এরপর যা ইচ্ছা তা চাওয়া। -তিরমিজি ও আবু দাউদ এক হাদিসে এসেছে হজরত রাসূলে মাকবুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দোয়া করার পূর্বে দরুদ শরীফ পড়ে, তার দোয়া অবশ্যই কবুল হয়। মহান আল্লাহতায়ালা অসীম দয়ালু; দোয়ার কিয়দাংশ কবুল করে অপর অংশ কবুল না করা তার স্বভাব নয়। এই হাদিসের সারমর্ম এই যে, দরুদ তিনি অবশ্যই কবুল করে থাকেন, সুতরাং তিনি দরুদ কবুল করে দোয়ার অবশিষ্টাংশ অর্থাৎ প্রার্থনীয় বিষয় অগ্রাহ্য করেন না। শেষ পর্যন্ত উভয় অংশই কবুল করেন। হজরত আবু সোলায়মান দারানী (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করে, তার উচিত, প্রথমে দরুদ পড়া এবং দরুদ পড়ে দোয়া শেষ করা। কেননা আল্লাহ উভয় দরুদ কবুল করেন। -কিমিয়ায়ে সাআদাত

3085 views

আপনি আল্লাহর কাছে কি চান? প্রথমেই বলি আপনার রিজিক যতটুকু ততটুকুই পাবেন। আমরা মুসলিম মাত্রই বিশ্বাস করি যে মানুষের আয় ও উপার্জন, জীবন ও মৃত্যু, এবং সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য ইত্যাদি র্নিধারণ হয়ে যায় যখন তিনি মায়ের উদরে থাকেন। কিন্ত স্বভাবগতভাবে মানুষের মধ্যে তাড়াহুড়া করার প্রবণতা আছে। সে দ্রুত সব কিছু পেতে চায়। সব কিছু ভোগ করতে চায়। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত জীবিকা আসবেই। কেউ তার রিজিক ভোগ না করে মৃত্যুবরণ করবে না। মহানবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, হে মানুষ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। ধনসম্পদ সংগ্রহে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো। কেননা কেউ তার রিজিক পরিপূর্ণ না করে মৃত্যুবরণ করবে না। যদিও তা অর্জনে বিলম্ব হোক না কেন। আপনি ইসলামের উত্তম পন্থা অবলম্বন করুন তাহলেই দোয়া কবুল হবে।

3085 views


আল্লাহ অতি মহান। আল্লাহ সম্বন্ধে কথা বলতে আদর রক্ষা করে কথা বলতে হয়। আল্লাহ পরিপূর্ণ দিতে চান না- এ কথাটা মারাত্মক ভুল। আল্লাহ সম্বন্ধে পরিপূর্ণ ধারনা নেই বলেই এ কথা বলেছেন। বস্তুত আল্লাহ দিতে চান। আমরা নিতে জানি না। দোষটা মূলত আমাদের; আল্লাহর নয়। আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন, দুআ কবুলের কিছু শর্ত আছে। তদ্রূপ দুআর ক্ষেত্রে কিছু আদবও রয়েছে। দুআ কবুলের শর্ত ও দুআর আদব জেনে সে অনুযায়ী যদি দুআ করা হয় তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ দুআ কবুল করবেন। তবে দুআ কবুলেরও কিছু ধাপ আছে। সে ধাপগুলো সম্বন্ধে পরিস্কার ধারণা না থাকলে মনে হবে দুআ কবুল হয় নি বা হয় না। নিচে এ বিষয়ক কিছু হাদীস উল্লেখ করছি। আশা করি তাতে আপনার প্রশ্নের উত্তরগুলো পরিস্কার হবে।

দু‘আ কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত

 বিশেষভাবে স্মর্তব্য যে, দু‘আ মনোনীত বা কার্যকর হওয়ার ব্যাপারেও কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি নিজের বাস্তব জীবনে আল্লাহর নির্দেশনাবলি পালনে ব্যর্থ হয় এবং গ্রহণ-বর্জন বা হালাল-হারামের ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘনে কুণ্ঠাবোধ না করে তাহলে সে কেবল মুখে কুরআন-হাদীসের কিছু শব্দ বা প্রার্থনামূলক কিছু বাক্য উচ্চারণ করেই নিজেকে তার সুফল পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করতে পারে না। মহান আল্লাহ তা‘আলা পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন,
সুতরাং তোমরা ডাকো তার আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। (‘সূরা মু’মিন’- ১৪)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
আল্লাহ শুধু মুত্তাকী লোকদের (আমল) কবুল করেন। (‘সূরা মায়িদাহ’- ২৭)
আবু হুরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
তোমরা দু‘আ কবুল হওয়ার ব্যাপারে পূর্ণ বিশ্বাসী হয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো। জেনে রেখো! আল্লাহ তা‘আলা নির্লিপ্ত এবং অমনোযোগী হৃদয়বান লোকদের প্রার্থনা কবুল করেন না। (সুনানে তিরমিযী; হা.নং ৩৪৭৯)
অন্য এক হাদীসে উবাদাতা ইবনুস সামেত রাযি. সূত্রে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
যে কেউ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে আল্লাহ তার দু‘আ কবুল করবেন নতুবা এর বিনিময়ে তার আসন্ন বিপদ-আপদ দূর করে দিবেন। তবে শর্ত এই যে, সে কোনো গুনাহ বা সম্পর্কচ্ছেদের জন্য দু‘আ করবে না। (সুনানে তিরমিযী; হা.নং ৩৩৮১)

অন্য হাদীসে আবু হুরায়রা রাযি. সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
বান্দার দু‘আ কবুল করা হবে যদি না সে পাপ অথবা সম্পর্কচ্ছেদের জন্য দু‘আ করে এবং ফলাফল লাভের জন্য তাড়াহুড়া না করে। জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর রাসূল! তাড়াহুড়া কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাড়াহুড়া অর্থ এ কথা বলা, আমি এত এত দু‘আ করলাম অথচ আমার দু‘আ কবুল হতে দেখছি না। ফলে সে তখন ক্লান্তিবোধ করে এবং দু‘আ করা ছেড়ে দেয়। (সহীহ মুসলিম; হা.নং ৭১১২)
অন্য বর্ণনায় আবু সাঈদ খুদরী রাযি. সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
যদি কোনো ব্যক্তি এমন দু‘আ করে যাতে পাপ এবং সম্পর্কচ্ছেদের বিষয় নেই তাকে তিনটি বিষয়ের মধ্য থেকে একটি বিষয় অবশ্যই দান করবেন। (১) হয় তার প্রার্থনা কবুল করবেন। (২) নয় তার সমপরিমাণ আসন্ন বিপদাপদ দূর করে দিবেন। (৩) নতুবা সমপরিমাণ প্রতিদান পরকালের জন্য সঞ্চয় করে রেখে দিবেন। (মুস্তাদরাকে হাকেম; হা.নং ১৮১৬)
অন্যত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
এক ব্যক্তি সুদীর্ঘ পথ সফর করে উষ্কখুষ্ক, ধূলোমলিন হয়ে আকাশ পানে হস্ত উত্তোলন করে বলে, হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রতিপালক! অথচ তার আহার্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পরিচ্ছদ হারাম এবং হারাম উপার্জনেই তার আহার চলে। তাহলে এ ব্যক্তির দু‘আ কীভাবে কবুল করা হবে? (সুনানে তিরমিযী; হা.নং ২৯৮৯)
3085 views

Related Questions