3 Answers
হযরত আবু হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) বলেছেনঃ ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে মুয়াজ্জিন যা বলে তাই বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সুনানে আন-নাসাঈ, হাদীস নং ৬৭৪)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সঃ) বলেছেনঃ যে লোক আযানের শব্দ শুনল অথচ এর জবাব দিলো না, তাহলে তাঁর সলাত হলো না। তবে কোন ওযর থাকলে ভিন্ন কথা। (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ১০৭৭)
জনাব! উক্ত হাদিসদ্বয়ের আলোকে জানা যায়, মুয়াজ্জিনের আজানের উত্তর দেয়া সুন্নাত। অতঃপর দরূদ পাঠ করা সুন্নাত এবং ফজিলতপূর্ণ ইবাদতও বটে। আর সুন্নাতের আমলই মানুষকে পরকালে প্রিয়নবি (সঃ) এর শাফায়াত লাভ করাবে।
আজানের জবাব দেওয়া,মানে মুয়াজ্জিন যখন আজান দেয়, তখন তার সাথে সাথে ওই বাক্য গুলি বলা। এখন সমাজে দেখা যায়, মুয়াজ্জিন যখন আজান দেয়, তখন আমরা যেকোনো কাজে যুক্ত থাকি, মুয়াজ্জিন আজান দেয়, এটা বুঝতে পারি, কিন্তু তার জবাব আমরা বেশিরভাগ মানুষই দেই না।
চলুন জেনে নেই, এই আজানের জবাব দেওয়ার সওয়াব কি? সুবহান আল্লাহ!
প্রথমে জানতে হবে, মুয়াজ্জিন যে আজান দেয়, তার সওয়াব কি? তার সওয়াব তো অনেক ভাই, কিয়ামতের দিন তার গর্দান থাকবে সবথেকে উঁচুতে, সবথেকে লম্বা গর্দান থাকবে, মর্যাদার কারণে এটা হবে।
হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ(স:) বলেছেন,মানুষ যদি আজানের সওয়াব দেওয়ার ব্যাপারে জানতো তাহলে তারা লটারি করতো আজান দেওয়ার জন্য।। …( সহীহ বুখারী)
মুয়াজ্জিনের সওয়াব হলো, তার আজান শুনে যত লোক নামাজ পড়তে আসবে, তাদের সমপরিমাণ সওয়াব বোনাস হিসেবে মুয়াজ্জিন কে দেওয়া। (সুবহান আল্লাহ)! এক অমূল্য সওয়াব।
হাদিসে এসেছে, সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ(স:) কে বলতেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ(স:) সমস্ত সওয়াব তো মুয়াজ্জিন ই নিয়ে নিল, আমরা তো এই বিরাট সওয়াব থেকে দুরে রয়ে গেলাম, আমরা কি করবো?
তখন রাসূলুল্লাহ(স:) বললেন, তোমরা তার মতো সওয়াব পেতে চাও? খুব সহজ পদ্ধতি, মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তাই বলো। মুয়াজ্জিনের সাথে সাথে তোমরাও একই কথা বলতে থাকো। তাহলে কি হবে , মুয়াজ্জিনের সমপরিমাণ সওয়াব তোমরাও পেয়ে যাবে।(সুবহান আল্লাহ) ।।।(সহীহ মুসলিম)
অর্থাৎ - মুয়াজ্জিনের আজান শুনে যদি ১০০ জন মানুষ নামাজ পড়তে আসে, তাহলে তাদের সমপরিমাণ সওয়াব মুয়াজ্জিন পাবে, আপনি যদি মুয়াজ্জিনের আজানের উত্তর দেন, তাহলে আপনিও এই সওয়াব পাবেন। কত বড় আমল । (সুবহান আল্লাহ)
মুয়াজ্জিনের আজান শুনার পর তার উত্তর দেয়ার পাশাপাশি দরূদ ও দোয়া করায় রয়েছে অনেক ফজিলত। হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আজানের উত্তর দেয়ার পর দরূদ পাঠ এবং দোয়ার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাও, তখন তার অনুরূপ বল। অতঃপর আমার প্রতি দরূদ পাঠ কর। কারণ যে আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করবে; আল্লাহ তাআলা তার বদলে তার প্রতি দশবার রহমত নাজিল করবেন। তারপর আল্লাহর নিকট আমার জন্য অসিলা চাও; কারণ অসিলা হচ্ছে জান্নাতের একটি স্থান যা আল্লাহর একজন বান্দা ছাড়া আর কারো জন্য প্রযোজ্য নয়। আশা করি আমিই সেই ব্যক্তি। আর যে আমার জন্য অসিলা চায়, তার জন্য শাফায়াত হালাল হয়ে যায়। (মুসলিম) হাদিসে এসেছে, সাহাবীরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সমস্ত সওয়াব তো মুয়াজ্জিন-ই নিয়ে নিল, আমরা তো এই বিরাট সওয়াব থেকে দুরে রয়ে গেলাম, আমরা কি করবো? তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, তোমরা তার মতো সওয়াব পেতে চাও? খুব সহজ পদ্ধতি, মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তাই বলো। মুয়াজ্জিনের সাথে সাথে তোমরাও একই কথা বলতে থাকো। তাহলে কি হবে , মুয়াজ্জিনের সমপরিমাণ সওয়াব তোমরাও পেয়ে যাবে। আজানের ফযীলত সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে স্বা‘স্বা‘আহ হতে বর্ণিত, একদা আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, আমি তোমাকে দেখছি যে, তুমি ছাগল ও মরুভূমি ভালোবাসো। সুতরাং তুমি যখন তোমার ছাগলে বা মরুভূমিতে থাকবে আর নামাজের জন্য আজান দেবে, তখন উচ্চ স্বরে আজান দিয়ো। কারণ মুয়াজ্জিনের আজান ধ্বনি যতদূর পর্যন্ত মানব-দানব ও অন্যান্য বস্তু শুনতে পাবে, কিয়ামতের দিন তারা তার জন্য সাক্ষ্য দেবে। আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট শুনেছি। (রিয়াযুস স্বা-লিহীন, হাদিস নম্বরঃ ১০৪২ , মুসলিমঃ ৩৮৯, তিরমিযীঃ ৩৯৭) উল্লেখিত হাদিসের আলোকে জানা যায়, মুয়াজ্জিনের আজানের উত্তর দেয়া সুন্নাত। অতঃপর দরূদ পাঠ করা সুন্নাত এবং ফজিলতপূর্ণ ইবাদতও বটে। আর সুন্নাতের আমলই মানুষকে পরকালে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শাফায়াত লাভের উপায়।