3 Answers

ফজিলতঃ
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন--"অর্ধ শাবানের রাতে [শবে বরাতে] আল্লাহ তাআলা তাঁর সমস্ত মাখলুকের প্রতি মনযোগ আরোপ করেন এবং মুশরিক (যারা আল্লাহর সাথে শিরক করে) ও বিদ্বেষ (হিংসা পোষণকারী ব্যক্তি) ভাবাপন্ন ব্যক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন।"
(সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৫৬৬৫, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-২৭৫৪, মুসনাদে ইসহাক বিন রাহওয়াই, হাদীস নং-১৭০২)
2740 views

শবে বরাতের ফযিলত সম্বন্ধে অনেক হাদিস রয়েছে। আপনি এই লিংকের মধ্যে দেখুন। ৩ টি হাদিস রয়েছে।

2740 views

#নিসফে শাবান বা শবে বরাত নিয়ে একটি তাত্ত্বিক পর্যালোচনা: , শবে বরাতের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে আমাদের সমাজে অনেক হাদিস প্রচলিত আছে, যার কোনটি দুর্বল আর কোনটি বানোয়াট ও জাল। এই ব্যাপারে একটি মাত্র সহিহ বা হাসান হাদিস রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, ان الله ليطلع في ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه الا لمشرك او مشاحن "আল্লাহ তাআলা মধ্য শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সকল বান্দাকে ক্ষমা করে দেন" (সুনানে ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমদ) , শবে বরাত সম্পর্কে এটিই একমাত্র সহিহ হাদিস। আর এই হাদিস থেকে জানা যায় যে, এই রাত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে মাফি পেতে হলে অবশ্যই শিরক মুক্ত থাকতে হবে এবং হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করতে হবে। এই দুইটা শর্ত মানলে কোনো প্রকার ইবাদত-বন্দেগী ছাড়াই আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দিবেন। আর এই দুইটা শর্ত পূর্ণ না করে বরাতের রাত্রে যতই ইবাদত বন্দেগী করা হোক না কেন মাফ পাব না। , মূলত এই মাফী আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা বোনাস মাত্র । তাই এই বোনাস পেতে হলে অবশ্যই তার শর্ত দুটো পূর্ণ করতে হবে। #এখন আমাদের দেখার বিষয় যে, আল্লাহ তাআলা কি প্রতি বছর মাত্র একবারই এই বোনাস দান করেন না আরও দেন? মুসলিম শরীফের একটা হাদীসে রাসূলুল্লাহ বলেন, تعرض اعمال الناس في كل جمعة مرتين يوم الاثنين ويوم الخميس يغفر لكل عبد مؤمن الا عبدا بينه وبين اخيه شحناء. "আল্লাহর দরবারে প্রতি সপ্তাহে দুইবার মানুষের আমলনামা পেশ করা হয়। প্রতি সোমবারে এবং বৃহস্পতিবারে। তখন সকল মুমিন বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। কেবল যারা তার আপন ভাইয়ের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ রাখে তারা ব্যতীত।" , দেখুন, ওপরের হাদিসের ফজিলত এবং এই হাদিসের ফজিলতের মধ্যে সামান্যতম কোন তফাৎ নেই। দু হাদিসেই একই শর্তের বিনিময়ে ক্ষমার ঘোষণা করা হয়েছে। উভয় হাদিসে বলা হয়েছে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করতে হবে। আর প্রথম হাদিসে শিরকের কথা থাকলেও দ্বিতীয় হাদিসে তা উল্লেখ নেই কিন্তু এটা স্বতঃসিদ্ধ কথা যে, এই বোনাস পেতে হলে অবশ্যই শিরক মুক্ত থাকতে হবে। তাহলে বুঝা গেল শবে বরাতের ফজিলত কিন্তু প্রতি সপ্তাহের আমরা দুই দিনই লাভ করতেছি। অতএব, বৎসরে একদিন নয় বরং প্রতি সপ্তাহে দুই দিন আমাদের জন্য শবে বরাত। উভয় হাদীসের মধ্যে ফজিলতের দিক দিয়ে যেহেতু কোনো পার্থক্য নেই, সেহেতু শুধু শবে বরাতে আলাদা আমেজ করা কিংবা এই দিনে ফিলিংস তৈরি হওয়ার মতো কিছু নেই। , এখন দেখি এর থেকেও ফজিলতপূর্ণ কোন রাত আছে কিনা? মুসলিম শরীফের আরেকটা হাদীসে রাসূলুল্লাহ বলেন, ينزل الله الى سماء الدنيا كل ليلة حين يبضى ثلث الليل الاول فيقول انا ملك انا ملك من ذا الذي يدعوني فاستجيب له من ذا الذي يسالني فاعطيه من ذا الذي يستغفرني فاغفر له فلا يزال كذلك حتى يضيء الفجر. "প্রতি রাত্রে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন আমি রাজাধিরাজ, আমি রাজাধিরাজ । আমাকে ডাকার কেউ আছে কি? আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। আমার কাছে চাওয়ার কেউ আছে কি? আমি তাকে তা প্রদান করব। আমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার কেউ আছে কি ? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। এইভাবে ফজর পর্যন্ত আল্লাহতালা ডাকতে থাকেন"। , এই হাদিসে বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসাটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওপরের দুটো হাদিসে শুধু সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা করা হয়েছে আর এই হাদিসের ক্ষমার পাশাপাশি যা চাইবে তা দেওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি করেছেন। ওপরের দুটো হাদিস থেকে এই হাদিসের ফজিলত ও মর্যাদা আরও অনেক বেশি। কেননা এই হাদীসের আলোকে প্রতি রাত্রে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা তাঁর দুই হাত প্রসারিত করে বান্দাকে ডাকেন। বান্দার জন্য এর চাইতে বড় সৌভাগ্য এবং মাফ পাবার সুযোগ আর কি হতে পারে? প্রতি রাত্রে যেখানে আমি ক্ষমা পাচ্ছি সেখানে বছরে একদিনের অপেক্ষায় বসে থাকা বোকামি বৈ কিছু নয়। , অতএব, যারা পূর্ণ ফজিলত লাভ করার জন্য শবে বরাত পালন করতে চান এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাত কামনা করতে চান তাদের জন্য প্রত্যেক রাতই শবে বরাত । তাই বছরে একদিন এর অপেক্ষায় না থেকে প্রতি রাত্রে তাহাজ্জুদের নামাজের মাধ্যমে শবে বরাত পালন করা উচিত। #আর যারা শবে বরাতে হালুয়া রুটি খেতে চান , ফতোয়াবাজি করে ফিতনা সৃষ্টি করতে চান এবং কুরআন মাজীদ এই রাত্রে নাযিল হয়েছে বলে কোরআনের আয়াতের অপব্যাখ্যা করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চান তাদের জন্য বছরে একদিন শবে বরাত। আমি বলি মুমিন বান্দাদের জন্য প্রতি রাত‌ই শবেবরাত আর বেদাতি ও ফাসিকদের জন্য বছরে একদিন শবে বরাত। এখন আপনি কোন দলে থাকবেন সেটা আপনার বিষয়। فهل الى خروج من سبيل. , #শবেবরাতে ভিন্ন কোনো এবাদত নেই । অন্যান্য রাতের মত এই রাতেও এবাদত করতে হবে। শুধু এতোটুকু করা যেতে পারে যে, অন্যান্য রাতে একটু কম এবাদত করতে, এই রাতে একটু বেশি করেন সমস্যা নাই । কিন্তু যদি মনে করেন যে, এই রাতে বেশি এবাদতের আলাদা কোন ফজিলত আছে কিংবা এটা শবে বরাতের এবাদত তাহলে বেদাত হবে। পরের দিন রোজা রাখার ব্যাপারেও কোন সহীহ হাদিস নেই। যে হাদীস সমাজে প্রচলিত তা খুব দুর্বল বা বানোয়াট। অতএব শবে বরাতকে কেন্দ্র করে কোনো রোজা রাখা যাবে না। তবে আপনি যদি মনে করেন যে, এটা শাবান মাসের একটি রোজা। কিংবা এবার যেহেতু সোমবারে শবে বরাত তাই এটা সপ্তাহিক সুন্নতি রোজা হিসেবে রাখতে পারেন । সব থেকে ভালো হচ্ছে আরবি মাসের 13, 14 ও 15 তারিখ, এই তিনদিন রোজা রাখা । কেননা প্রতি মাসেই এই তিন দিন রোজা রাখা সুন্নত। তাহলে আপনার আইয়ামে বীজের রোজা আদায় হবে আবার শবে বরাতের রোজাও আদায় হয়ে যাবে । আর শবে বরাতের রোজার নিয়ত করে যদি রোজা রাখেন তাহলে তা বেদ‌আত হবে । আল্লাহ তাআলা ভালো জানেন

2740 views