1 Answers
ডেভিটের দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা এবং ওয়াংতু-এর দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। উভয় অর্থব্যবস্থার মধ্যে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে একটি দেশের জন্য অধিকতর কল্যাণকর বলে আমি মনে করি।
যে ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণ ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং' প্রধানত বেসরকারি উদ্যোগে, সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে যাবতীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। অপরদিকে, যে অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং সবকিছু সরকারি নির্দেশে পরিচালিত হয় তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে।
উপরোক্ত অর্থব্যবস্থার মধ্যে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা একটি দেশের উন্নয়নের জন্য অধিক কল্যাণকর। কারণ ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উৎপাদন মুনাফার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। মুনাফার আশায় উৎপাদনকারীরা অধিক ঝুঁকি গ্রহণ করে নতুন নতুন দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করে। ফলে দেশের উন্নয়ন দ্রুত ত্বরান্বিত হয়। এ অর্থব্যবস্থায় বিভিন্ন উৎপাদনকারীর মধ্যে অবাধ প্রতিযোগিতা বিরাজ করে। উৎপাদনকারীরা সর্বাপেক্ষা কম খরচে বেশি উৎপাদন করার চেষ্টা করে। ফলে উৎপাদন ব্যয় কম হয় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হ্রাস পায়। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় প্রত্যেক ক্রেতা স্বাধীনভাবে তার রুচি ও ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যসামগ্রী ভোগ করতে পারে। অন্যদিকে, ওয়াংতু-এর দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিরাজমান থাকায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে প্রায় সবকিছু পরিচালিত হয়। এখানে ভোক্তার স্বাধীনতা সীমিত থাকে।
তাই উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ডেভিট ও ওয়াংতু-এর দেশের অর্থব্যবস্থার মধ্যে ডেভিটের দেশের অর্থব্যবস্থা অধিক কল্যাণকর।