1 Answers

উদ্দীপকে সারণি 'A' ও 'B' দ্বারা যথাক্রমে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা ও সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বোঝানো হয়েছে। এ দুই অর্থব্যবস্থার মধ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে আমি অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করি। ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসমূহ ব্যক্তিমালিকানাধীন থাকে এবং ব্যক্তি অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করার লক্ষ্যে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান করে না। ফলে শ্রমিকরা শোষিত হয় এবং সম্পদ পুঁজিপতিদের কাছে পুঞ্জীভূত হয়ে সমাজে শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি করে। এ অর্থব্যবস্থায় উদ্যোক্তা ও ভোক্তা পূর্ণমাত্রায় স্বাধীনতা ভোগ করলেও শ্রমিক শোষণ ও শ্রেণিবৈষম্যের ফলে তা কলুষিত হয়। অন্যদিকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসমূহের মালিকানা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে থাকে। এ অর্থব্যবস্থায় রাষ্ট্রই শ্রমিকের মজুরি প্রদান করে এবং উৎপাদনের অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করে। ফলে ধনতন্ত্রের মতো পুঁজিপতি কর্তৃক শ্রমিককে বঞ্চিত করার সুযোগ থাকে না। এখানে শ্রমিকের মজুরি প্রদানের মূলনীতি হলো-"প্রত্যেকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাবে এবং কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাবে।" এ ব্যবস্থায় বেকারত্ব থাকে না, কারণ রাষ্ট্র প্রত্যেকের সামর্থ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ব্যবস্থা করে দেয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় আয়ের সুষম বণ্টন হয়ে থাকে এবং এর আয় বৈষম্য ধনতন্ত্রের চেয়ে কম হয়। সমাজতন্ত্রে সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রম একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার আওতায় রাষ্ট্রকর্তৃক পরিচালিত হয়। তাই সম্পদের অপচয়ও অপেক্ষাকৃত কম হয়। ফলে মোট জাতীয় উৎপাদনও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায় এবং সম্পদের সুষম বণ্টন হয়। তাই আমি সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাকে উত্তম মনে করি।

5 views

Related Questions