1 Answers

বাংলাদেশের জাতীয় উৎপাদন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে 'Y' এবং 'Z' দেশ দুটির অর্থব্যবস্থার মধ্যে 'Z' অধিকতর কার্যকর।

প্রদত্ত ছকে '৭' এবং 'Z' দ্বারা চিহ্নিত দেশ দুটিতে বিদ্যমান অর্থব্যবস্থার প্রকৃতি থেকে নির্ণিত হয় যে, উক্ত দেশ দুটিতে যথাক্রমে সমাজতান্ত্রিক ও মিশ্র অর্থব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। কেননা সরকারি উদ্দ্যোগ ও পরিচালনায় পরিচালিত অর্থব্যবস্থা যেখানে সমাজে সুষম বণ্টনের প্রতি মনোযোগ নির্দিষ্ট থাকে তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। অন্যদিকে, বেসরকারি উদ্যোগ আংশিক কার্যকর থাকার অর্থ হলো সেখানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের উদ্যোগ সহাবস্থানে রয়েছে, যা মিশ্র অর্থব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য দিক হলো এতে উৎপাদনের উপাদানসমূহের মালিকানা রাষ্ট্রের, উদ্যোগও নিয়ন্ত্রণ হয় সরকারি নির্দেশনায় এবং যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হয়। আর মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের সংমিশ্রণ ঘটলেও এতে প্রতিযোগিতা, মুনাফা লাভের প্রচেষ্টা, আয় বৈষম্য প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে। বাংলাদেশে বেসরকারি খাত ও ব্যক্তি উদ্যোগ সম্প্রসারণ অব্যাহত আছে। আবার প্রধান প্রধান শিল্প, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মোটকথা, বাংলাদেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার প্রাধান্যসহ মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। তথাপি এদেশের অধিকাংশ অর্থনৈতিক উৎপাদনে ব্যক্তিগত উদ্যোগ বিদ্যমান থাকলেও জাতীয় বৃহৎ শিল্পসমূহ এখনও সরকারি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ক্রমশ বিরাষ্ট্রীয়করণ অব্যাহত থাকায় এবং সরকারের পুঁজি সংগ্রহে বেসরকারি অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসরকারি উদ্যোগের প্রাধান্য ক্রমবর্ধমানভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এদেশে ধনতন্ত্রের প্রাধান্য থাকায় আয় বৈষম্য অতীতে ছিল, বর্তমানেও রয়েছে এবং প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ উদ্দীপকের ছকে প্রদত্ত 'Y'-এর বৈশিষ্ট্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও 'Z'-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং, বাংলাদেশের জাতীয় উৎপাদন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে 'Z' দেশটির বৈশিষ্ট্যই অধিকতর কার্যকর।

5 views

Related Questions