1 Answers
সম্পদের ভোগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে উল্লিখিত অর্থব্যবস্থাসমূহের মধ্যে ইসলামি অর্থব্যবস্থাই অধিকতর কার্যকর বলে আমি মনে করি। মানুষের অভাব পূরণের জন্য কোনো দ্রব্যের উপযোগিতাকে ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে ভোগ বলা হয়। উল্লিখিত অর্থব্যবস্থার মধ্যে ধনতন্ত্রে ভোক্তার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা স্বীকৃত থাকে। ধনতন্ত্রে ব্যক্তির অর্থনীতি বাধাহীন ও স্বাধীন হওয়ায় ব্যক্তি তার ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্য ক্রয়, ভোগ, অপচয়, নষ্ট বা ফেলে রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে ব্যক্তির অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও ইচ্ছাই সবকিছুর নির্ধারক। মিশ্র অর্থব্যবস্থাতেও ধনতন্ত্রের সংমিশ্রণ থাকায় এবং ধনতন্ত্রের প্রাধান্য থাকায় একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ বিপর্যয়কালীন সময়ে কোনো দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর সরকার হস্তক্ষেপ করলেও অন্যান্য সময়ে ভোক্তা অবাধে দ্রব্য ক্রয়- বিক্রয় ও ভোগ করতে পারে এ অর্থব্যবস্থায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়তে সম্পদের অপচয় নিষিদ্ধ। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের ওপর নির্দিষ্ট - হারে যাকাত ধার্য ও প্রদান করতে হয় বলে এতে কেউ সম্পদের পাহাড় গড়তে পারে না। ফলে কেউ ইচ্ছা করলেই অসংখ্য বা অপ্রয়োজনীয় সম্পদ জমা রাখতে বা ভোগ করতে পারে না বরং তার ভোগকে নিয়ন্ত্রণ করে সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হয়। সর্বাধিক কল্যাণকামী এ অর্থব্যবস্থায় কারও অতিরিক্ত সম্পদ ভোগ করার বা কারও একেবারে বঞ্চিত হওয়ার পথটি শরীয়া আইন দ্বারা সুনিয়ন্ত্রিতভাবে বুদ্ধ করে দেওয়া আছে। পরিশেষে। বলা যায়, উপরিউক্ত কারণসমূহের জন্যই ইসলামি অর্থব্যবস্থাই সম্পদের ভোগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে বলে আমি মনে করি।