1 Answers

উদ্দীপকের ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের সাথে ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। অন্যদিকে স্বৈরাচারী এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। দুটো আন্দোলনেই দেশের সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সমর্থন ছিল। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি ও ১৯৯০ এর গণ- অভ্যুত্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য এটিই যে, দুটো আন্দোলনই ছিল স্বৈরশাসনের বিপক্ষে। স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ও এরশাদ উভয়েই আন্দোলন দমনে অত্যাচার, নিপীড়ন, হত্যার পথ বেছে নেন।

আবার ১৯৬৬ সালের ছয় দফা ছিল আমাদের স্বায়ত্তশাসনের দাবি আর নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ছিল স্বাধীন দেশেই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন। ছয় দফার পক্ষে জনমত গড়ে উঠলে আইয়ুব সরকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় শুরু করে। আইয়ুব খান ছয় দফাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক ও পাকিস্তানের অখণ্ডতার প্রতি হুমকি বলে আখ্যায়িত করেন। ১৯৬৬ সালের ৭ জুন বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে হরতাল পালিত হয়। হরতালের সময় পুলিশের গুলিতে কয়েকজন প্রাণ হারায়। এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়ই এক পর্যায়ে উনসত্তরের ঐতিহাসিক গণ- অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। অন্যদিকে, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শাসক এরশাদের পতনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), কৃষক সংগঠনসহ সব দল প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে মিছিলে গুলিবর্ষণে ৫ জন নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়। এভাবে এরশাদবিরোধী আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়।

আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের সাথে ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের নানা সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।

5 views

Related Questions

পৃথিবীর ধনী দেশগুলোতে অসমতার বিস্ফোরণ ঘটেছে তা ঠিক, কিন্তু গত কয়েক দশকে যে গরিব মানুষের জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে তা-ও বলা দরকার। ১৯৮০ থেকে ২০১৬ সাল এই সময়ের আয়ের নিরিখে নিচের দিকে থাকা ৫০ শতাংশ মানুষের আয় দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯৯০ সালের পর দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও অর্ধেক কমেছে। ইতিহাসের আর কোন সময়ে এত মানুষ এত অল্প সময়ে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসেনি। জীবনমানের উন্নতিও হয়েছে ব্যাপক। এমনকি যারা এখনও গরিব, তাদের জীবনেও একথা প্রযোজ্য। ১৯৯০ এর দশকের পর সারা বিশ্বে সন্তান জন্মদানের সময় মৃত্যুহারের অর্ধেক কমেছে। নবজাতকের মৃত্যুর হারও একইভাবে কমেছে এবং এতে দশ কোটি বেশি শিশুর জীবন রক্ষা পেয়েছে। আজ যেসব দেশে বড় ধরনের সামাজিক গোলযোগ নেই, সেইসব দেশের প্রায় সব শিশুই প্রাথমিক শিক্ষা পাচ্ছে। (Translate into English)
1 Answers 4 Views