1 Answers

উদ্দীপকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার ইঙ্গিত রয়েছে এবং এর সাথে প্রাচীন বাংলার অর্থব্যবস্থার ধরনগত বৈসাদৃশ্য লক্ষণীয়। 

প্রাচীন বাংলায় মুসলিম এবং ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলাদেশে প্রধানত সামন্ততান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। তবে বর্তমানে আমাদের দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার প্রাধান্যসহ মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব হাসান চৌধুরী নিজস্ব অর্থায়নে ২টি গার্মেন্টস পরিচালনা করছেন। পোশাক খাতে তার এ গার্মেন্টস- এর আয় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। এ বিষয়টি স্পষ্টভাবেই বোঝা যায় যে, এ গার্মেন্টসটি বেসরকারি খাতের আওতাভুক্ত। আর এটি কেবল ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাতেই বিদ্যমান। এখানেই সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান বিদ্যমান। কিন্তু প্রাচীন বাংলায় সামন্ততান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। এ ব্যবস্থা ছিল ভূস্বামীকেন্দ্রিক। অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। একজন ভূস্বামী ছিলেন অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ব্রিটিশ শাসনামলে এই ভূস্বামীদের বলা হতো জমিদার। তার নিয়ন্ত্রণে সকল বৃত্তি ও পেশার লোকজন যেমন- কৃষক, কামার, কুমার, তাঁতি, জেলে, ছুতার, স্বর্ণকার, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও চিকিৎসক থাকতেন। এমনকি তার সম্পদ বা সম্পত্তির নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব প্রজাকুল বা লাঠিয়াল বাহিনী থাকত। এ সময় বাংলায় ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল না। ফলে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহাবস্থান এ অর্থব্যবস্থায় লক্ষণীয় ছিল না। উদ্দীপকের অর্থব্যবস্থার সাথে প্রাচীন বাংলার অর্থব্যবস্থার এ বৈসাদৃশ্যই লক্ষ করা যায়।

4 views

Related Questions