1 Answers

জাউদ্দীপকের ঘটনাটির সাথে বিধবা বিবাহের প্রচলনের মিল রয়েছে।
উনিশ শতকে ভারতবর্ষে সমাজ-সংস্কারের ক্ষেত্রে এক বিশাল পদক্ষেপ ছিল বিধবা বিবাহের প্রচলন। এসময় যে কয়জন মনীষী বাংলার নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদের অন্যতম ছিলেন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। বাংলা তথা ভারতবর্ষের সমাজে প্রচলিত নানা ধরনের সেকেলে প্রথা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়ান। তখন হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিল। সমাজে বাল্যবিবাহ প্রচলিত ছিল বলে অনেক নারী খুব কম বয়সে বিধবা হলে বাকি জীবন কার্যত নিঃসঙ্গ ও অসহায় থাকতেন। বিদ্যাসাগর হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের পক্ষে জোরালো আন্দোলন চালান। তার নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ১৮৫৬ সালে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আশীষের বোন তমার স্বামী মারা গেলে তাকেও সহমরণ প্রথা অনুযায়ী স্বামীর সাথে একই চিতায় দাহ করা হয়। আশীষ তার বোনের এই দুরবস্থা দেখে সমাজ সংস্কারে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি এই অমানবিক প্রথাকে প্রতিহত করতে নিজের ছেলের সাথে এক বিধবা মেয়ের বিয়ে দেন। উদ্দীপকের এ ঘটনা ভারতের হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের প্রচলনকেই নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে বিধবা বিবাহ প্রচলনের সাদৃশ্য রয়েছে।

5 views

Related Questions