1 Answers

হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকের নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের পেছনে অবশ্যই কিছু কারণ রয়েছে।

নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড বলতে আমরা বুঝি দুর্নীতি। বাংলাদেশের সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই রয়েছে দুর্নীতি। বলতে গেলে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ নিমজ্জিত। কয়েক বছর পূর্বে দুর্নীতিতে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকার করে। বাংলাদেশে দুর্নীতির কারণ বহুবিধ। কথায় বলে অভাবে স্বভাব নষ্ট, অর্থাৎ অর্থকষ্টের কারণে কোনো কোনো চাকরিজীবী দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে উপরি আয়ের চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে তারা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ফাইলের কাজের বিনিময়ে ঘুষ, বকশিশ, কমিশন, চা-নাস্তা বাবদ খরচ, দ্রব্যসামগ্রী প্রভৃতি আদায় করে থাকে। কখনও এসব দুর্নীতিবাজরা ফাইল আটকিয়ে ঘুষ গ্রহণ করে। দেশে একদিকে কর্মক্ষেত্রের অপ্রতুলতা এবং অন্যদিকে ব্যাপক বেকারত্ব এ পরিস্থিতিতে যুব সমাজ যেকোনো চাকরির প্রত্যাশায় বিপুল পরিমাণ ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছে। তাছাড়া সমাজব্যবস্থায় দেখা যায় যার অর্থসম্পদ বেশি সেই মর্যাদার মাপকাঠিতে উঁচু স্তরের বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাকেই মর্যাদা ও প্রতিপত্তি লাভে ধনসম্পদ সংগ্রহ ও অধিক ধনী হবার আশায় অনেকে দুর্নীতির আশ্রয় নেয়। রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার অভাব, অগণতান্ত্রিক পন্থায় রাজনৈতিক ক্ষমতা, বদল এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা দুর্নীতি বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে থাকে। বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যস্তর লাগামহীনভাবে বেড়ে যাচ্ছে। সে। সাথে বাড়ছে মুদ্রাস্ফীতি। এ মূল্যস্তর বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে ব্যবসায়ী, আড়তদার, মজুতদার, মুনাফাখোর এবং ফটকা কারবারিরা দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলে। তারা প্রতারণা ও দুর্নীতির মাধ্যমে অধিক মুনাফা অর্জন করে। আবার এর ফলে স্বল্প আয়ের লোকেরা বাঁচার তাগিদে দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান যখন দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যর্থ হয় কিংবা এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে তখন সমাজে ব্যাপকভাবে দুর্নীতিতে ছেয়ে যায়। ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ও দুর্নীতির একটি বড় কারণ।

4 views

Related Questions