1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্যটি হলো মুরগির মাংস, যা এক ধরনের প্রাণিজ আমিষ। নিচে এটির পরিপাক প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-

আমিষের পরিপাক: লালায় কোনো প্রোটিওলাইটিক এনজাইম না থাকায় মুখে আমিষ জাতীয় খাদ্যের কোনো পরিপাক হয় না। পাকস্থলিতে পাচকরসের নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন HCI-র উদ্দীপনায় সক্রিয় পেপসিন নামক উৎসেচকে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে। এ অর্ধপরিপাককৃত খাদ্য এরপর অম্লীয় কাইমে পরিণত হয় এবং ধীরে ধীরে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। পাকমন্ড বা কাইম ডিওডেনামে প্রবেশ করলে অগ্ন্যাশয় থেকে একটি ক্ষারীয় পাচকরস নিঃসৃত হয়। এই পাচকরসে আমিষ পরিপাকের এনজাইগুলো থাকে। যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস অম্লীয় অবস্থায় খাদ্যকে ক্ষারীয় করে পরিপাকের উপযোগী করে তোলে। অগ্ন্যাশয় রসে বিদ্যমান ট্রিপসিনের সাহায্যে আংশিক পরিপাকৃত আমিষ ভেঙ্গে অ্যামাইনো এসিড এবং সরল পেপটাইডে পরিণত হয়।

এরপর পরিপাককৃত আমিষের খাদ্য উপাদান ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাই দ্বারা শোষিত হয়।

প্রোটিন বা আমিষের গুরুত্ব: প্রোটিন কোষপর্দাসহ কোষীয় বিভিন্ন অঙ্গাণুর গাঠনিক উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়। কোষে প্রোটিন সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে কাজ করে এবং প্রয়োজনে শক্তি উৎপাদন করে। প্রাণিদেহের পেশি, ত্বক, চুল, শিং, নখ, আঁইশ ইত্যাদি বিভিন্ন অঙ্গ প্রোটিন দ্বারা গঠিত। প্রোটিন হরমোন, এনজাইম এবং অ্যান্টিবডি তৈরি করে। প্রোটিন কোষের প্রোটোপ্লাজম গঠনে সহায়তা করে। লোহিত রক্তকণিকার প্রোটিনযুক্ত হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড পরিবহন করে। এগুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন কাজে প্রোটিনের ভূমিকা রয়েছে।

4 views

Related Questions