1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত খাবারগুলো উক্ত যুগ তথা প্রাচীন যুগের খাবার- দাবারের আংশিক প্রতিফলন- মন্তব্যটি যথার্থ।

প্রাচীন বাংলার মানুষের খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। এ সময়ে মানুষের প্রধান খাদ্য ছিল ভাত, মাছ-মাংস, শাকসবজি ইত্যাদি। এ ছাড়া দুধ, দধি, ক্ষীর, ঘৃত ইত্যাদিও সমান জনপ্রিয় ছিল। বিভিন্ন ধরনের পিঠাপুলি ছিল অত্যন্ত মুখরোচক খাবার। এর মধ্যে চাল হতে প্রস্তুত পিঠার জনপ্রিয়তাই ছিল বেশি। প্রাচীন বাংলার খাবারের মধ্যে বিভিন্ন তরকারি ছিল উল্লেখযোগ্য। সে সময় বেগুন, লাউ, কুমড়া, ঝিঙা, কাঁকরোল, কচু প্রভৃতি শাকসবজি উৎপন্ন হতো। ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, কলা, তাল, পেঁপে, ইক্ষু, নারকেল ইত্যাদি পাওয়া যেত। এ সময়ে বিভিন্ন ধরনের পানীয়ের প্রচলন ছিল যেমন: ইক্ষুরস, তালরস, নারকেলের পানি প্রভৃতি। এছাড়া তখন সকল প্রকার মাছ ছিল সহজলভ্য। তন্মধ্যে ইলিশ ও শুঁটকি খুব প্রিয় খাবার ছিল। সর্বোপরি এ সময়ের খাবারে খুব বেশি আড়ম্বর না থাকলেও খাদ্যাভ্যাসে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

উদ্দীপকের ছাহাত নানাবাড়িতে বেড়াতে গেলে প্রথমে তাকে বার্গার, কোমল পানীয়, হটডগ ইত্যাদি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। পরে রাতের খাবারে তাকে মাছ, সবজি, শুঁটকি ও দধি দেওয়া হয়। এ ছাড়া খাবার শেষে মসলাযুক্ত পান ও বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পুলি দেওয়া হয়। তার এ খাবারগুলো প্রাচীন যুগের খাবারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও তা এ যুগের খাবারের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটায় না। উপরের আলোচনায় প্রাচীন বাংলার বিভিন্ন খাবারের উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই প্রদত্ত উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

উপরের আলোচনা পর্যালোচনা করে বলা যায় যে, উদ্দীপকে বর্ণিত উল্লিখিত খাবারগুলো প্রাচীন বাংলার খাবার-দাবারের আংশিক প্রতিফলন।

4 views

Related Questions