1 Answers

শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞাজ্যোতি ভান্তের ঘটনার শেষাংশে গৌতম বুদ্ধের ধর্ম প্রচারের ঘটনার ইঙ্গিত বহন করে।

গৌতম বুদ্ধ বদ্ধত্বলাভের পর তাঁর নতুন ধর্ম প্রচারের সিদ্ধান্ত নিলেন। এই পবিত্র সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য তনি বিভিন্ন স্থানে গমন করেন। তাঁর প্রচারিত বাণী শুনে অনেকে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে। বুদ্ধ তার শিষ্যদের দিকে দিকে এই ধর্ম প্রচারের জন্য প্রেরণ করলেন এবং বললেন, বহুজনের মঙ্গলের জন্য তোমরা দিকে দিকে ছাড়িয়ে পড়ো। যা প্রজ্ঞাজ্যোতি ভান্তের ধর্ম প্রচারের সাথে মিলে যায়।

উদ্দীপকের শ্রদ্ধেয় প্রজ্ঞাজ্যোতি ভান্তের ধ্যান চর্চা করে জীবের জন্মগ্রহণ সম্পর্কে জানলেন এবং ধর্মের বাণী ঘরে ঘরে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। বুদ্ধত্বলাভের পরে বুদ্ধ তাঁর নবলব্ধ ধর্মপ্রচারের সিদ্ধান্ত নিলেন। এ জন্য 'তিনি আষাঢ়ী পূর্ণিমাতিথিতে সারনাথের ঋষি পতন মৃগদাবে উপস্থিত হলেন। ঐখানে তখন অবস্থান করছিলেন তাঁর পূর্বের পাঁচ সঙ্গী। কোন্ডিন্য, বপ্ন, ভদ্দিয়, মহানাম ও অশ্বজিৎ। এদের কাছে তিনি প্রথম নবলব্ধ ধর্মপ্রচার করলেন। এরাই বুদ্ধের কাছে প্রথম দীক্ষাপ্রাপ্ত ভিক্ষু। তাদের দীক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করলো 'ভিক্ষুসঙ্ঘ'। বুদ্ধের প্রথম ধর্ম দেশনা 'ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র' নামে খ্যাত। বুদ্ধ শিষ্যদের নিয়ে ঐ তপোবনেই প্রথম বর্ষাবাস শুরু করলেন। এ সময়ে শ্রেষ্ঠিপুত্র যশ ও তাঁর চার বুদ্ধের কাছে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন। এদের অনুসারী আরও পঞ্চাশ জন যুবকও ভিক্ষু হন। বুদ্ধ এই ভিক্ষুসংঘকে বর্ষাবাসশেষে দিকে দিকে অনন্য এই ধর্মপ্রচারে প্রেরণ করলেন।

উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকের শেষাংশের ঘটনাটি মহাজ্ঞানী বুদ্ধের প্রথম ধর্মদেশনাকে ধারণ করে। যা মহাকারুণিক বুদ্ধের সমগ্রজীবনের এক আংশিক অংশ মাত্র। তথাগত বুদ্ধের জন্ম, বাল্যবিবাহ, চারিনিমিত্ত দর্শন, সন্ন্যাস ও চারি আর্য সত্য এবং তা নিরসনে আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ আবিষ্কার, বুদ্ধত্ব লাভ এবং জীবনব্যাপী জগৎ ও জীবকল্যাণময় ধর্মদর্শনের প্রচার এক বিরাট আখ্যান।

5 views

Related Questions