1 Answers

নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যই প্রধান সামাজিক কুপ্রথা ও দৃষ্টিভঙ্গি, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, নিরাপত্তার অভাব, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, যৌতুক, আইন ও আইনগত অধিকার সম্পর্কে নারীদের অসচেতনতা, আইন ও বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রভৃতি নারীর প্রতি সহিংসতার গুরুত্বপূর্ণ কারণ। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। যেমন- নারী শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ, বিধবা ভাতা প্রদান এবং নারীর জন্য ঋণদান কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি। নির্যাতন, সহিংসতার ধরন ও প্রকৃতির সাথে আইন প্রণয়ন' এবং এর যথাযথ প্রয়োগ। পরিবারে ছেলেমেয়ে উভয়কেই পারিবারিক জীবনে নৈতিক মূল্যবোধ গঠন সম্পর্কিত শিক্ষা প্রদান। নারী অধিকার এবং অধিকার সংশ্লিষ্ট আইন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মতৎপরতার সম্প্রসারণ। নারী নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রবর্তিত আইন। যেমন- এসিড অপরাধ দমন আইন, *এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, যৌতুক প্রতিরোধ আইন, পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, বাল্যবিবাহ অধ্যাদেশ, সন্ত্রাস দমন অধ্যাদেশ এর যথাযথ প্রয়োগ। নারীর ক্ষেত্রে সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধী কিংবা অপরাধীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা প্রভৃতির ক্ষেত্রে সমাজের মানুষের ঐক্যবদ্ধ চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে সহিংস ঘটনা প্রতিরোধ করা যেতে পারে। নারীর বিরুদ্ধে সহিংস ঘটনার প্রভাব প্রচার মাধ্যমে প্রকাশ করে জনমনে সচেতনতা সৃষ্টি করে সহিংসতা প্রতিরোধ করা যেতে পারে। উপরিউক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে আরও কতকগুলো বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। যেমন- সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ, অপসংস্কৃতি রোধ, নারী ও পুরুষের শ্রদ্ধাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা ও নারীর ভূমিকা ও মর্যাদার যথার্থ মূল্যায়ন করা প্রভৃতি।

5 views

Related Questions