1 Answers
হ্যাঁ, আমি মনে করি, কন্যাসন্তানের প্রতি শ্যামল বাবুর আচরণ দেশের উন্নয়নের অন্তরায়। কেননা নারীরাও মানুষ, তাদেরও অবদান রয়েছে সভ্যতার উন্নয়নে। সঠিকভাবে মেয়েদের গড়ে তুলতে পারলে তারাও পুরুষের মতো সমান তালে দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। পৃথিবীর উন্নত ও সভ্য দেশের প্রতি লক্ষ করলে দেখা যায় যে, নারী ও পুরুষদের একই দৃষ্টিতে দেখা হয়। তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয় না। সেখানে পুরুষরা যেভাবে বেড়ে ওঠে নারীরাও তেমনি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বেড়ে ওঠে। সেখানে নারী ও পুরুষেরা কাঁধে কাঁধ রেখে দেশ ও জাতি গঠনে সামনের দিকে এগিয়ে চলে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে নারী ও পুরুষের প্রতি বৈষম্য করা হয়। পুরুষেরা যতটুকু সুযোগ-সুবিধা পায় নারীরা ততটুকু পায় না। পদে পদে নারীরা লাঞ্ছিত হয়। শিশুকালে কন্যাসন্তানদের অযত্ন-অবহেলায় লালন-পালন করা হয়। ফলে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপূর্ণরূপে বিকশিত হতে পারে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার ক্ষেত্রেও তারা বঞ্চিত হয়। বাড়িতে, রাস্তায়, অফিস-আদালতে তাদের ওপর চলে নির্মম সহিংসতা। ফলে তারা সমাজ থেকে নিজেদেরকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে। ইচ্ছা থাকলেও তারা দেশ ও সমাজ গঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে না পারার কারণে দেশের অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সুতরাং বলা যায়, কন্যাসন্তানের প্রতি শ্যামল বাবুর আচরণ তার পরিবার, সমাজ তথা দেশের উন্নয়নের অন্তরায়।