1 Answers
হ্যাঁ আমি মনে করি, এ ধরনের কার্যাবলি পালনে সরকার ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।
বর্তমানে প্রত্যেকটি রাষ্ট্রই জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের দাবি করে। রাষ্ট্রের ভূমিকা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং কর আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত নয়। রাষ্ট্রকে অবশ্যই সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য, নাগরিকদের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশে জনকল্যাণমূলক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। জনকল্যাণ ও উন্নয়নে রাষ্ট্রের এ কাজগুলো ঐচ্ছিক বা গৌণ কাজ। রাষ্ট্রের জনগণকে শিক্ষিত করে তোলা রাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ। জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং সমস্ত বিদ্যমান বিভিন্ন বৈষম্য ও কুপ্রথা দূরীকরণে রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ভূমিকা পালন করে। যেকোনো রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নতি তার শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নয়ন ও প্রসারের সাথে সংশ্লিষ্ট। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কলকারখানা স্থাপন ও পরিচালায় দায়িত্ব গ্রহণ এবং এর মাধ্যমে অধিক সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কাজ। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন তথা রাস্তাঘাট, সেতু বিনির্মাণ, সড়ক, রেলপথ, নৌচলাচল, বিমান যোগাযোগ স্থাপন, ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ও যোগাযোগের আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সংযুক্ত থাকা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঐচ্ছিক কাজ। জনগণের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রতি বজায় রাখার জন্য রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং জাতীয়তাবোধ সৃষ্টিতে দেশীয় শিল্প, গান-বাজনা, আঞ্চলিক বৈচিত্র্য রক্ষা, লোকশিল্পের সংরক্ষণ, জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন, সাংস্কৃতিক বিনিময় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঐচ্ছিক কাজ। রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ঐচ্ছিক কাজ হলো জনগণের অধিকার রক্ষা করা। রাষ্ট্রের বিশাল কর্মীবাহিনীকে পরিচালনা করা এবং সুস্থ রাখা রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কাজ। রাষ্ট্র একটি বৃহদাকার সংগঠন। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ রাষ্ট্রকে মোকাবিলা করতে হয়। তবে সার্বিকভাবে জনগণের কল্যাণ সাধনই রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কাজের পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে ব্যাপকতর ও বিস্তৃত হচ্ছে। এ ধরনের কার্যাবলি পালনে সরকার ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।