1 Answers

উদ্দীপকের বৈশিষ্ট্য ছাড়াও উক্ত অর্থব্যবস্থা বা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বেশকিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

উদ্দীপকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কার্যাবলিতে সরকারি নির্দেশনার বৈশিষ্ট্যটি ফুটে উঠেছে। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসহ সকল সম্পদ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন। সম্পদের ওপর কোনো রকম ব্যক্তিমালিকানা থাকে না। সমাজতন্ত্র হচ্ছে 'সমাজের অর্থনৈতিক সংগঠন।' এ সংগঠনের মাধ্যমেই রাষ্ট্র উৎপাদনের চারটি উপাদানকে সমন্বিত করে একটি সঠিক কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা অনুসারে উৎপাদন কার্যের নির্দেশনা দেয় ও তা পরিচালনা করে। সমাজের সকল সদস্য এ পরিকল্পিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সর্বাধিক কল্যাণ অর্জন করবে। এটিই সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। এ অর্থব্যবস্থায় উৎপাদকের যেমন উৎপাদন বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতা নেই, তেমনি ভোগকারীর নিজ ইচ্ছামতো দ্রব্যসামগ্রী ভোগের সুযোগ নেই। উৎপাদক সরকার নির্ধারিত দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করে এবং ভোগকারী সেগুলো প্রয়োজনমতো ক্রয় ও ভোগ করে। তবে সামাজিকভাবে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নির্বাচন ও ক্রয়ের ব্যাপারে ভোক্তার স্বাধীনতা আছে। এখানে অর্থনীতিতে উৎপাদন প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য সর্বাধিক মুনাফা অর্জন। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও জনগণের সর্বাধিক কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। এখানে ব্যক্তিগত ঘৃনাফা অর্জনের সুযোগ নেই। এছাড়াও ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মুনাফা পুঁজিপতি ও উদ্যোক্তা গ্রহণ করে। মুনাফার মধ্যে শ্রমিকের মজুরির একটি অংশ থাকে, যা তাকে দেওয়া হয় না। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অর্জিত মুনাফার মালিক রাষ্ট্র বা সরকার। একইভাবে ভূমির খাজনা ও মূলধনের সুদও সরকারের কোষাগারেই জমা হয়। কারণ সরকারই ভূমি ও মূলধনের মালিক।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার একটি বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠলেও এর আরও কতিপয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা উপরিউক্ত আলোচনা থেকে ধারণা করা যায়। 

5 views

Related Questions