1 Answers
শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে পরিবার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে- এ বক্তব্যটিকে আমি সমর্থন করি।
শিশুর জন্মের পূর্বেই তার সামাজিকীকরণের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয় পরিবারে এবং পরিবারের মাধ্যমে শিশুর সামাজিকীকরণ শুরু হয়। শিশুর শৈশব ও কৈশোর কাটে পরিবারেণ স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের ভালোমন্দ দিক শিশুকে প্রভাবিত করে। পরিবারের মধ্যেই সামাজিক নীতিবোধ ও নাগরিক চেতনার সূচনা হয়। আমরা সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ, ত্যাগ, ভালোবাসা প্রভৃতি গুণাবলি পরিবার থেকেই অর্জন করি। মা-বাবার মধ্যকার সম্পর্ক শিশুর ওপর অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। মা-বাবার মধ্যকার সুসম্পর্ক শিশুর ব্যক্তিত্বের সুষ্ঠু বিকাশের সহায়ক, দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক শিশুমনেরও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে। মায়ের হাত ধরেই শিশুর সামাজিকীকরণের শুরু হয়। মা শিশুর খাদ্যাভাস ও ভাষা শিক্ষার প্রথম মাধ্যম। মা শৈশবে শিশুকে যেসব খাবারের প্রতি আকর্ষণীয় করে তোলেন পরবর্তী জীবনে তার প্রভাব দেখা যায়। মায়ের আদর্শ, বিশ্বাস, নৈতিকতাবোধ শিশুমনে স্থায়ী রেখাপাত করে থাকে। মূল্যবোধ ও ধর্মীয় শিক্ষাও পরিবার থেকেই শিশুরা গ্রহণ করে। এছাড়াও রাজনৈতিক চেতনা ও বিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব, আচরণগত বৈশিষ্ট্য শিশুরা পরিবার থেকেই অর্জন করে। মা-বাবা ছাড়াও ভাই-বোন, দাদা-দাদি, চাচাত ভাইবোন, চাচা-চাচি, নানা-নানি ও নিকটাত্মীয়দের আচরণিক প্রভাবও শিশুর ওপর পড়ে।
তাই বলা যায়, শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে পরিবার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।