1 Answers

উদ্দীপকের কবিতাংশটি পৃথিবীতে অবতাররূপে ঈশ্বরের আবির্ভাবের ক্ষেত্রে পুরোপুরি যুক্তিযুক্ত।

যিনি অবতরণ করেন তিনিই অবতার। তবে ধর্মশাস্ত্রে যে কাউকেই অবতার বলা হয়নি। ভগবান বিষ্ণু যখন জগতের কল্যাণের জন্য বিভিন্নরূপে বৈকুণ্ঠ থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করেন তখন তাঁকে বলা হয় অবতার। অবতাররূপে এসে তিনি অত্যাচারীর বিনাশ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকের কবিতাংশটি এ বিষয়টিকেই তুলে ধরেছে। পৃথিবীতে নানা সময় নানা দুষ্ট লোকের জন্ম হয়। তারা মানুষের প্রতি অত্যাচার করে এবং এতে জগতে শোক, দুঃখ, কষ্ট ও অশান্তির সৃষ্টি হয়। শিষ্টদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এমনি সময়েই ভগবান বিষ্ণু অবতাররূপে আবির্ভূত হয়ে দুষ্টদের বিনাশ করেন। জগতে আবার শান্তি ফিরে আসে। ভগবানও তাঁর স্বস্থানে ফিরে যান। শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন ভগবানের পূর্ণাবতার। তিনি কেন ভগবানের অবতাররূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন, সে কথা তিনি নিজেই শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলেছেন-

যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।।
পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।

অর্থাৎ, হে অর্জুন, জগতে যখন ধর্মের গ্লানি দেখা দেয় এবং অধর্মের উত্থান ঘটে, তখনই আমি নিজেকে সৃজন করি। সজ্জনদের রক্ষার জন্য, দুর্জনদের বিনাশের জন্য এবং ধর্মকে সংস্থাপনের জন্য যুগে যুগে আমি আবির্ভূত হই।

উদ্দীপকের কবিতাংশটি এবং শ্রীকৃষ্ণের উক্তিটির সারকথা একই। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশটি পৃথিবীতে অবতাররূপে ঈশ্বরের আবির্ভাবের ক্ষেত্রে পুরোপুরি যুক্তিযুক্ত।

5 views

Related Questions