1 Answers

উদ্দীপকের জনাব আমিনুলের সিদ্ধান্তটি আমাদের সমাজ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
উদ্দীপকের ঘটনাটির মাধ্যমে নারীদেরকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথাগত পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অনেকেই এখনও মনে করেন নারীর স্থান সংসারের চৌহদ্দির মধ্যে। অনেক বাবা-মা মেয়েদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করাকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেন। এ কারণে বহু মেয়ে প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করলেই তাদেরকে বিয়ে দেওয়া হয়। মেয়েদের লেখাপড়ার ব্যাপারে অভিভাবকদের আগ্রহ কম থাকার একটা কারণ হচ্ছে তাদের এ ধারণা যে, মেয়েরা পরিবারের অর্থনীতিতে ছেলেদের মতো ভূমিকা রাখতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, তারা বিয়ে হলেই 'পরের ঘরে' চলে যাবে বলে লেখাপড়া করিয়ে লাভ নেই। আমাদের দেশের মোট জনশক্তির প্রায় অর্ধেক নারী। তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে পিছিয়ে আছে। এর প্রধান কারণ হলো তারা সামাজিক সাম্য থেকে বঞ্চিত। লেখাপড়ার ব্যাপারে ছেলে সন্তানেরা পরিবার থেকে যে পরিমাণ সহযোগিতা পায় মেয়েরা তা পায় না। ফলে তারা তাদের মেধা ও দক্ষতার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে না। অনেক অভিভাবক মেয়েদের লেখাপড়ার পেছনে ব্যয় করাকে অপচয় বলে মনে করেন। মেয়েদের প্রতি এ ধরনের বৈষম্যপূর্ণ আচরণ মোটেও কাম্য নয়। মেয়েরা ছেলেদের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা পেলে নিজেদের দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে পরিবার ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বেশি অবদান রাখতে পারবে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, জনাব আমিনুল তাদের মেয়ের শিক্ষার বিষয়ে যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। নীলাও ভাই আকাশের মতো উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেলে সমাজ, দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। তাই তাকেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।

6 views

Related Questions