1 Answers
'জীবজগতের কল্যাণ সাধন হিন্দুধর্মের আদর্শের একটি প্রধান দিক' - আশুতোষ বাবুর এ কথাটি যথার্থ।
জীবের সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর। তিনি সকল জীব ও জড়ের স্রষ্টা। তিনি জীবের মাঝে জীবাত্মারূপে অবস্থান করেন। তিনি হলেন পরমাত্মা। জীবাত্মা তাই পরমাত্মার অংশ। জীবের সেবা করা হিন্দুধর্মের প্রধান ব্রত হিসেবে বিবেচিত। বলা হয়েছে, যত্রঃ জীব তত্রঃ শিব। অর্থাৎ যেখানে জীব, সেখানেই শিব। এখানে শিব বলতে ঈশ্বরকেই বোঝানো হয়েছে। ঈশ্বরজ্ঞানে জীবসেবা হিন্দুধর্মের একটি মূল বৈশিষ্ট্য এবং অন্যতম প্রধান নৈতিক শিক্ষা। তাই আমাদের চারপাশে বিরাজমান জীবের সেবার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরের সেবা করতে পারি।
জীবের সেবা করা হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান কাজ হিসেবে বিবেচিত। ধর্মে জীবকে ভালোবেসে ঈশ্বর বা ব্রহ্মজ্ঞানে সেবা করতে বলা হয়েছে। ঈশ্বর জীবের মাঝে অবস্থান করেন। তাই জীবসেবা করলে প্রকারান্তরে তাঁকেই সেবা করা হয়। মানুষ ঈশ্বরের সৃষ্ট শ্রেষ্ঠ জীব। তাই মানুষের কল্যাণে কাজ করতে ধর্মে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। মানুষের মঙ্গলে কাজ করার জন্য মানবতা নামক নৈতিক গুণের প্রয়োজন। মানবতা গুণের মাধ্যমে মানুষের মহত্ত্ব প্রকাশ পায়। মানবতাবোধের উপস্থিতির কারণে মানুষ একে অন্যের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পারে। এ গুণটির জন্য মানুষ নিরন্নকে অন্য দিয়ে, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দিয়ে, আশ্রয়হীনকে আশ্রয় প্রদান করে সাহায্য করে। ফলে সমাজ থেকে দারিদ্র্য, অকল্যাণ দূর হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
উপরিউক্ত আলোচনায় বলা যায়, জীবসেবার মাধ্যমে ঈশ্বরের সেবা করা হয়। এ কারণে হিন্দুধর্মে জীবসেবা এত গুরুত্বপূর্ণ।