1 Answers

একটি প্রাচীন ধর্ম হিসেবে হিন্দুধর্ম বিশ্বাস করে যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ। জীবের সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়। বহুরূপে অর্থাৎ বহুজীবরূপে ঈশ্বর আমাদের সম্মুখেই আছেন। তাই তাঁকে খুঁজে বেড়ানোর দরকার নেই। যিনি জীবকে ভালোবাসেন, তিনি সেই সেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরেরই সেবা করেন। তাই হিন্দুধর্মে জীবকে ঈশ্বর বা ব্রহ্মজ্ঞানে সেবা করতে বলা হয়েছে। কারণ জীবকে সেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা করা হয়। হিন্দুধর্মে বৃক্ষ একটি জীব। বৃক্ষের মধ্যে প্রাণরূপে ঈশ্বর বিরাজিত। তাই বৃক্ষসেবা পরিচর্যা করা হিন্দুধর্মে অতি প্রাচীনকাল থেকেই অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অতিথিকে নারায়ণ বলা হয়। ভগবান বিষ্ণুর অপর নাম নারায়ণ। পূজা আয়োজনে বিভিন্ন ধরনের ফল ও পুষ্টি সমৃদ্ধ উন্নত খাদ্য দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে অর্পণ করা হয়। যা হিন্দুধর্মীয় রীতি অনুসারে পূজা শেষে প্রসাদ হিসেবে সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এটাও জীবসেবা। সকল জীবের মধ্যে প্রাণরূপে ঈশ্বর বিরাজিত এবং ঈশ্বরের সত্তা প্রকাশিত। আর এ কারণেই হিন্দুধর্মের মনীষী স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, “জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।”

মনীষীদের এ বক্তব্য এবং হিন্দুধর্মের যত্র জীবঃ তত্র শিবঃ-এর শিক্ষায় এ বোধ জাগ্রত হয় যে, জীব ঈশ্বরের অংশ। তাই ঈশ্বর জ্ঞানে জীবের সেবা করতে হবে। জীবের সেবা করলেই ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করা যাবে।

6 views

Related Questions