1 Answers
উক্ত মতবাদ তথা ব্রহ্মের উপাসনার তত্ত্বের সাথে বহু দেব- দেবী ও এক ঈশ্বর সম্পর্কিত মতবাদের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল।
ঊনবিংশ শতকে বিজ্ঞানমনস্ক সুধীজন সনাতন হিন্দুধর্মের প্রচলিত পূজা-পার্বণ, ধ্যান-ধারণা ইত্যাদি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেন। এক্ষেত্রে যুক্তিবাদী সংস্কারক মনীষীদের মধ্যে রাজা রামমোহন রায়ের কথা বিশেষভাবে স্মরণীয়। উদ্দীপকেও এ বিষয়টি লক্ষণীয়। এখানে ভারতবর্ষের যে যুক্তিবাদী সংস্কারকের কথা বলা হয়েছে তিনি হলেন রাজা রামমোহন রায়। ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে তিনিই এক ব্রহ্মের সাধনার জন্য আহবান জানান এবং ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসক হয়ে হিন্দু সম্প্রদায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠী চিন্তায় সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। সব উপাস্য যে একই ব্রহ্মের বিভিন্ন প্রকাশ তা তারা ভুলে যেতে থাকে। তখন রাজা রামমোহন রায় এক ব্রহ্মের উপাসনার তত্ত্বকে উপস্থাপিত করেন এবং স্থাপন করেন ব্রাহ্মসমাজ। তাঁর এই সংস্কার-চেতনা সুধীমহল নন্দিত হলেও সাধারণ মানুষ তাদের প্রচলিত বিশ্বাস ও পূজা-পার্বণ ত্যাগ করতে পারেনি। পরবর্তীতে একেশ্বরবাদী ধারণা আর বহু দেব- দেবীরূপে ঈশ্বর আরাধনা এ দুইয়ের সমন্বয় সাধিত হয় ঠাকুর রামকৃষ্ণের অমর উপদেশে 'যত মত, তত পথ'; 'যত্র জীব; তত্র শিব' ইত্যাদি বাণীর মাধ্যমে। এভাবেই ব্রহ্মসাধনার মতবাদটির সাথে বহু দেব-দেবী ও ঈশ্বর সম্পর্কিত সমন্বয় ঘটে যা উদ্দীপকেও আলোচিত হয়েছে।