1 Answers
প্রশ্নের উক্তিটি স্বামী বিবেকানন্দ প্রণীত। আধুনিক ধর্ম সংস্কারের যুগে স্বামী বিবেকানন্দের আবির্ভাব ঘটেছিল। তিনি ছিলেন মহান সাধক শ্রীরামকৃষ্ণের অনুগত শিষ্য। ঠাকুর রামকৃষ্ণের মঠ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৮৯৭ সালে স্বামী বিবেকানন্দ কর্তৃক রামকৃষ্ণ মিশন স্থাপিত হয়। এ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন নামে যুগ্ম প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাপী ভাবান্দোলন বা বেদান্ত আন্দোলন সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করছে। স্বামী বিবেকানন্দের বাণী বা আদর্শ শুধু হিন্দুধর্মের প্রেক্ষাপটে নয়, বরং বিশ্ব মানবতার ক্ষেত্রেও সমানভাবে ক্রিয়াশীল। কিন্তু ধর্ম সংস্কারের এ যুগে স্বামী বিবেকানন্দের আগে ও পরে আরো অনেক মহাপুরুষের আবির্ভাব ঘটেছে। ঊনবিংশ শতকে হিন্দুধর্মে তথা বাংলাদেশের হিন্দুধর্মে এক বিশেষ চিন্তাচেতনার বিকাশ লক্ষ করা যায়। একেশ্বরবাদী রাজা রামমোহন রায়, মাতৃসাধক শ্রীরামকৃষ্ণ, মতুয়াবাদের প্রবর্তক হরিচাঁদ ঠাকুর, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দর, ইসকন-এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ, সৎসঙ্গ সংগঠন- এর প্রতিষ্ঠাতা ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র, অযাচক আশ্রমের প্রণেতা স্বামী স্বরূপানন্দ, পরমহংস, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণে ভূমিকা রাখা স্বামী • প্রণবানন্দ, বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী প্রমুখ মহাপুরুষের আবির্ভাবে হিন্দুধর্মে নানা ভাবধারা ও মতাদর্শের উপস্থিতি ঘটেছে। বিভিন্ন মত ও পথের বৈচিত্র্যের মাঝেও হিন্দুধর্মাবলম্বীগণ সনাতন বাবধারা বজায় রেখে চলছে। প্রশ্নের উক্তিতে স্বামী বিবেকানন্দের যে বাণী তুলে ধরা হয়েছে এর পাশাপাশি উপরিউক্ত সংস্কারকগণের মতবাদও হিন্দুধর্ম সংস্কারে জায়গা করে নিয়েছে।