1 Answers
রমেশ বাবুর মাঝে স্বামী বিবেকানন্দের 'অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যায় বলে প্রশ্নের মন্তব্যটি যথার্থ।
স্বামী বিবেকানন্দ জাত-পাত বিচার করতেন না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত উদার মানসিকতার অধিকারী একজন ব্যক্তি। অসাম্প্রদায়িক ভাবধারার স্বামী বিবেকানন্দ নানা প্রশংসনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলেন। উদ্দীপকের রমেশ বাবুও স্বামী বিবেকানন্দের ভাবধারাপুষ্ট। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে প্রতি বছর বাড়িতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তিনি। এ ভাবনা তার অসাম্প্রদায়িক চেতনারই বহিঃপ্রকাশ। বিবেকানন্দের কাছে কোনো জাতিভেদ ছিল না। তিনি বলতেন নীচ জাতি, মূর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর সকলেই আমাদের ভাই। এদের সেবাই পরম ধর্ম। তাঁর এ আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্রাহ্মণ যুবকরা পর্যন্ত কলেরাপীড়িত চণ্ডালদের পাশে বসে তাদের সেবা করেছেন। তিনি সমাজের নীচু স্তরের মানুষদের প্রতি উঁচু স্তরের মানুষের অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছেন। সারা দেশ ঘুরে তিনি শ্রমিক শ্রেণির মানুষের অবস্থা দেখেছেন। তাঁদের পরিশ্রম করার ক্ষমতা দেখে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, এক সময় এঁরাই ভারতবর্ষ শাসন করবেন। শিক্ষার ব্যাপারে স্বামীজীর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সবাই যাতে সমান শিক্ষা পায়। তাই তিনি বলতেন- ব্রাহ্মণের ছেলের যদি একজন শিক্ষকের দরকার হয়, তাহলে শূদ্রের ছেলের দুজন বা তার চেয়ে বেশি শিক্ষকের প্রয়োজন। তিনি চাইতেন- ব্রাহ্মণ ব্রাহ্মণই থাকুক, তবে ব্রাহ্মণ যেন চেষ্টা করেন শূদ্রকেও তাঁর নিজের পর্যায়ে তুলে আনতে। নিজে মানুষ হওয়া এবং অন্যকেও প্রকৃত মানুষ হতে সাহায্য করা- এটিই হওয়া উচিত মানবজীবনের উদ্দেশ্য।