1 Answers

"উদ্দীপকের প্রতিফলিত রূপই 'মানুষ' কবিতার মর্মকথা"- মন্তব্যটি যথার্থ। 

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই পৃথিবীর সব মানুষ সমান। কিছু স্বার্থপর মানুষ নিজেদের স্বার্থের জন্য উঁচু-নিচু, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র বিভেদ সৃষ্টি করে রেখেছে সমাজে। অথচ একটু সহনশীলতা ও সহমর্মিতায় সমাজে কল্যাণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা হতে পারে।

উদ্দীপকে মানবতাবাদী মরমি সাধক লালন ফকিরের আদর্শের কথা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি মানুষের মধ্যে ভেদ-বৈষম্য বিশ্বাস করতেন না। তিনি মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসতেন। তিনি তাঁর গানের মধ্য দিয়ে মানুষকে ভালোবাসার কথা বলেছেন। আর্তমানবতার সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে বলেছেন। তিনি চেয়েছেন একটি বৈষম্যহীন আদর্শ মানব সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। 'মানুষ' কবিতার কবিও আলোচ্য কবিতার মধ্য দিয়ে সমাজে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। এ কারণেই তিনি ধর্মীয় সংকীর্ণতার গণ্ডি অতিক্রম করে মানুষকে সবকিছুর উপরে স্থান দিয়েছেন। কবি সব মানুষকে সমান করে দেখেন বলেই ভণ্ড মোল্লা-পুরোহিতদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ঘোষণা করেছেন। ভণ্ড ধার্মিকদের ধ্বংস করার জন্য ও সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন চেঙ্গিস, গজনি মামুদ ও কালাপাহাড়কে।

উদ্দীপকে লালন ফকিরের যে মত ও আদর্শ প্রকাশ পেয়েছে তা সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের কথা বলে। একটি সুন্দর বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার কথাও তিনি বলেছেন যা 'মানুষ' কবিতার মর্মকথাকেই ধারণ করে। 'মানুষ' কবিতায় মোল্লা ও পুরোহিতের ধ্বংস কামনা ও মানুষকে সবচেয়ে বড় করে দেখার মধ্য দিয়ে কবি এমন চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাই প্রকাশ করেছেন। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

4 views

Related Questions