1 Answers
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে দেশ ও জনগণের কল্যাণ সাধনে ভূমিকা রাখেন; তেমনি দৃশ্যপট-২ এর মাহাথির মুহাম্মদ মালয়েশিয়ার উন্নয়নে অবদান রেখেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সরকার কাজ শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ সরকার দেশ পরিচালনার জন্য প্রথমে একটি সংবিধান তৈরি করে যার অন্যতম মূলনীতি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। এ নীতির আলোকে বঙ্গবন্ধু দেশকে জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদহীন অসাম্প্রদায়িক দেশে পরিণত করেন। এ সংবিধানে মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো সংরক্ষণ করা হয়। রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড সফলভাবে পরিচালনার জন্য বঙ্গবন্ধু যোগ্যতা অনুযায়ী লোক নিয়োগের ঘোষণা দেন। দেশে শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি সারাদেশে ৯০০ কলেজ ভবন ও ৪০০ হাইস্কুল পুনর্নির্মাণ করেন। প্রায় ৩৮ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। এসব স্কুলে কর্মরত ১ লক্ষ ৬৫ হাজার শিক্ষকের চাকরিও সরকারি করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের বকেয়া ৯ মাসের বেতন পরিশোধ করেন। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে স্বায়ত্তশাসন প্রদানের জন্য ১৯৭৩ সালে 'বিশ্ববিদ্যালয় আইন' পাস করেন।
কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধন করেন। কৃষকদের খাজনা মওকুফ ও তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত রাস্তা-ঘাট, সেতুগুলো সংস্কার করেন যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এভাবে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে থাকে। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনকালেই তিনি এদেশের বৈপ্লবিক উন্নতি সাধন করেন। একইভাবে দৃশ্যপট-২-এ দেখা যায়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ রাষ্ট্রীয় কাজে যোগ্যতার ভিত্তিতে লোক নিয়োগ দিতেন। তার শাসনামলে দেশে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ ছিল না। বঙ্গবন্ধুর মতোই তিনি দেশে শিক্ষার প্রসারে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে মালয়েশিয়ায় অল্প সময়ে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, 'মাহাথির মুহাম্মদ স্বাধীনতা উত্তর বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি'- মন্তব্যটি যথার্থ।