1 Answers

ছক-১ এবং ছক-২ অর্থাৎ বক্সারের যুদ্ধ ও দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার
কারণে শাসকগোষ্ঠী অপ্রতিরোধ্য গতিতে সমগ্র ভারতে ক্ষমতার বিস্তার ঘটাতে থাকে- মন্তব্যটি যথার্থ।
১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে বাংলার নবাব মীর কাশিম, অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের সম্মিলিত বাহিনীর সাথে মেজর মনরোর নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এটি ইতিহাসে বক্সারের যুদ্ধ নামে পরিচিত। ছক-১ বক্সারের যুদ্ধের ইঙ্গিতবহ। বক্সারের যুদ্ধে জয় লাভের পর ১৭৬৫ সালে ইংরেজ কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে। দেওয়ানি লাভের পর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন নামে অদ্ভুত শাসন ব্যবস্থা চালু করেন, যেখানে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা আর বাংলার নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে। ছক-২-এ এই দ্বৈতশাসন ব্যবস্থাই প্রতিফলিত হয়েছে।
১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের জয়লাভের ফলে উপমহাদেশে তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। বিনা বাধায় তারা আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ লাভ করে। এ যুদ্ধের ফলে রবার্ট ক্লাইভ দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে। ফলে বাংলায় ইংরেজ অধিকার আইনত স্বীকৃত হয় এবং তারা অসীম ক্ষমতাশালী হয়ে উঠতে থাকে। দেওয়ানি লাভের পর ১৭৬৪ সালে রবার্ট ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা চালু করেন। এ শাসন ব্যবস্থায় কোম্পানি বাংলার রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা লাভ করে। আর বাংলার নবাবের ওপর ন্যস্ত হয় প্রতিরক্ষা ও বিচার ব্যবস্থার দায়িত্ব। অর্থাৎ কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা আর নবাব লাভ করে ক্ষমতাহীন দায়িত্ব। রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা পেয়ে কোম্পানি জনসাধারণের কাছ থেকে ইচ্ছামতো কর আদায় ও সম্পদ লুঠ করতে থাকে। এর ফলে ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে এবং শুরু হয় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসন যা পরবর্তী সময়ে সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, ছক-১ ও ছক-২-এ নির্দেশিত বক্সারের যুদ্ধ ও দেওয়ানি লাভের মাধ্যমে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা চালুর ফলে ইংরেজরা অপ্রতিরোধ্য গতিতে সমগ্র ভারতে ক্ষমতার বিস্তার ঘটায়।

5 views

Related Questions