1 Answers

মৃত্যুর পর মৃতদেহ সৎকারের বিধানের নাম অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, যা পালনের অনেক শাস্ত্রীয় বিধিবিধান রয়েছে।

মৃত্যুর পর দেহটিকে পবিত্র করে বস্ত্রাবৃত ও মালা চন্দনে সজ্জিত করে শ্মশানে নিয়ে দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে কুশে শয়ন করিয়ে দাহাধিকারী তাকে তেল-হলুদ মেখে স্নান করান। স্নানের পর মৃতদেহকে নতুন কাপড় ও মালা পরিয়ে কপালে চন্দন দিতে হয়। এরপর দুই চোখ, দুই কান, নাকের দুই ছিদ্র ও মুখ- এই সপ্তছিদ্র স্বর্ণ বা কাঁসা দ্বারা আচ্ছাদন করে পিন্ডদান করতে হয়। এরপর চন্দন কাঠ বা আম কাঠ দিয়ে শ্মশান শয্যা রচনা করে শব চিতায় শয়ন করাতে হয়। সন্তান অথবা সন্তানতুল্য কোনো অতিনিকটজন কর্তৃক মুখাগ্নি করা হয়। মুখাগ্নির পূর্বে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মন্ত্র পড়ে তিন অথবা সাতবার শবদেহ প্রদক্ষিণ করতে হয়। দাহ শেষে বার আঙুল মাপের আমকাঠ নিয়ে সাতবার চিতা প্রদক্ষিণ করে একটি করে সাতটি কাঠি দিতে হয়। পরে কুঠার দ্বারা চিতার জ্বলন্ত কাঠের উপর সাতবার আঘাত করতে হয়। এরপর শ্মশানবন্ধুগণ প্রত্যেকে তিন অথবা সাত কলস জল দিয়ে চিতার আগুন নিভান এবং চিতা পরিষ্কার করেন। জল দেওয়া শেষে কলসটি পূর্ণ করে চিতাভূমির উপর রেখে আটটি কড়ি এবং একটি বাঁশের টুকরা কলসের নিকট পুঁতে রাখতে হয়। পরে পিছনে ফিরে দাহাধিকারী কুঠার বা মাটির ঢেলা দিয়ে কলসটি ভেঙে চিতাস্থল না দেখে বামদিকে ঘুরে বৃদ্ধগণকে সম্মুখে রেখে স্নান করতে যাবেন। সকল শ্মশানবন্ধুই স্নান করবেন একবার ডুব দিয়ে। স্নান, সমাপন করে শ্মশান যাত্রীগণ মৃত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে নিমপাতা দাঁত দিয়ে কেটে ঘৃত, অগ্নি প্রভৃতি স্পর্শ করবেন।

4 views

Related Questions