1 Answers
উদ্দীপকের ১নং-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানের ঐতিহাসিক বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে (অর্থাৎ ২৫ মার্চ রাত ১২টার পর) গ্রেফতার হওয়ার পূর্বমুহূর্তে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ঘোষণাটি ইংরেজিতে ছিল, যাতে বিশ্ববাসী ঘোষণাটি বুঝতে পারেন। স্বাধীনতার এ ঘোষণা বাংলাদেশের সকল স্থানে তদানীন্তন ইপিআরের ট্রান্সমিটার, টেলিগ্রাম ও টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬ মার্চ দুপুরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নান চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে একবার এবং সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে দ্বিতীয়বার প্রচার করেন। উদ্দীপকে ১নং এ উক্ত ঘোষণারই কিছু অংশ তুলে ধরা হয়েছে। ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় একই বেতার কেন্দ্র থেকে সামরিক অফিসার মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার সমর্থনে বক্তব্য প্রদান করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং এর প্রতি বাঙালি সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সমর্থন ও অংশগ্রহণের খবরে স্বাধীনতাকামী জনগণ উজ্জীবিত হয়। স্বাধীনতা ঘোষণার বাংলা অনুবাদ: "ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছে, যাহার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ কর। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।” (বাংলাদেশ গেজেট, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী, ৩রা জুলাই, ২০১১)।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ১নং এ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানের ঐতিহাসিক বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।