1 Answers

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভটি শহিদ মিনার নামে পরিচিত। শহিদ মিনার নির্মাণের পটভূমিতে রয়েছে একটি বাঙালিদের আত্মত্যাগের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহিদের স্মরণে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশদের নাগপাশ থেকে মুক্তিলাভের পর পাকিস্তানের শাসনভার পশ্চিম পাকিস্তানের ধনীক শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। পূর্ব বাংলার ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ ব্যবস্থা পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের করায়ত্ত করতে শুরু করে এরং বৈষম্য সৃষ্টি করে। তারা উর্দুকে আমাদের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জোর প্রচেষ্টা চালায়। মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। পাকিস্তানি শাসনপর্বে এটি ছিল বাঙালিদের 'জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন। জাতীয় মুক্তির এ আন্দোলনের সূচনা হয় ১৯৪৭ সালে এবং পরিসমাপ্তি ঘটে ১৯৫২ সালে। ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে শহিদ হন আব্দুস সালাম, আবুল বরকত, আবদুল জব্বার, শফিউর রহমান, রফিকউদ্দিন আহমেদসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের মাতৃভাষার অধিকার ফিরে পাই। শহিদদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করে।

অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত স্মৃতিস্তম্ভটি হচ্ছে শহিদ মিনার। যা নির্মাণে রয়েছে ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের, এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক পটভূমি।

4 views

Related Questions