1 Answers
'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি নানা বিপ্লব ও বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির উত্থানের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরেছেন, যা উদ্দীপকেও লক্ষ করা যায়।
বহুকাল থেকে নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করে বাঙালি বর্তমান অবস্থায় উপনীত হয়েছে। ঘরের শত্রু ও বাইরের শত্রুকে পরাভূত করে বাঙালি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। তাই বাঙালির জীবনের বাঁকে বাঁকে রয়েছে বিপ্লব, বিদ্রোহ আর সংগ্রাম।
'আমার পরিচয়' কবিতায় কবি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র ও বাঙালি জাতিসত্তা প্রতিষ্ঠার পশ্চাতে যে বিপ্লব-বিদ্রোহ রয়েছে তার পরিচয় বিবৃত করেছেন। কৈবর্ত বিদ্রোহ, তিতুমীর আর হাজী শরীয়তউল্লাহর বিদ্রোহ, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন এবং সবশেষে স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকের বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা। এই বিপ্লব আর বিদ্রোহ বাঙালি জাতিকে এক নতুন পরিচয়ে পরিচিত করেছে, আর তা হলো 'বাঙালি হার না-মানা জাতি'। উদ্দীপকেও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে বাঙালি জাতির পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। যুগে যুগে নানা আন্দোলন, বিপ্লব-বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে বাঙালি এ পরিচয় লাভ করেছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা তার ভিত্তি রচিত হয়েছিল সুদূর অতীতকালে। অতীতের এসব বিপ্লব-বিদ্রোহের পটভূমি হলো বাঙালির স্বাধীনতার প্রত্যাশা, মুক্তির প্রত্যাশা।